মতার সভার আগেই ধুন্ধুমার! হুগলিতে তৃণমূল নেতাদের গণ-গ্রেফতারের অভিযোগে হাইকোর্টে দল

পুলিশ ও বিজেপির যৌথ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে একটি প্রতিবাদী রাজনৈতিক মিছিলের ডাক দিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনীতি এখন চরম উত্তাল। মিছিলের অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের হুগলি জেলা কনভেনার অসিত মজুমদার। আগামী বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

তৃণমূলের মূল অভিযোগ, মিছিল বানচাল করতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের বাঁচাতে ও মিছিলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বিজেপির স্পষ্ট দাবি, পুলিশ আইনের পথেই হাঁটছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

মিছিলের প্রাক্কালে শ্রীরামপুর ও রিষড়া থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায় রিষড়া মৈত্রী পথে। রিষড়া পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খানের আস্তানায় হানা দিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ। যদিও সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না জাহিদ হাসান। কিন্তু চার তৃণমূল কর্মীকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। দলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুগলি সফরের ঠিক আগে এই নির্বিচার গ্রেফতারি আসলে পরিকল্পিত চক্রান্ত। যদিও পুলিশের দাবি, নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই এই ধরপাকড় চলছে।

শুক্রবার শ্রীরামপুরে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ইন্ধনেই পুলিশ এই বর্বর অত্যাচার চালাচ্ছে। গত দু’দিন ধরে শ্রীরামপুর, রিষড়া, বৈদ্যবাটি এবং শেওড়াফুলি এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মীদের অন্যায়ভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। অসিত মজুমদারের বাড়ি ঘেরাও এবং প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর বাড়িতে সাদা পোশাকের পুলিশ পাঠানোর মতো ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তাঁর।

শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। হিম্মত থাকলে আমাকে গ্রেফতার করে দেখান।” একইসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাধারণ মানুষের কাছে করজোড়ে ওই মিছিলে সামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রিষড়ার বিজেপি নেতা হরি মিশ্র পাল্টা মন্তব্য করেছেন যে, রাজ্য পুলিশের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এর সঙ্গে তৃণমূলের মিছিলের কোনো যোগ নেই।