ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে ১২ বার সূর্যনমস্কার! টিম ইন্ডিয়ায় আসার আগে কী কঠিন রুটিন মানতে হতো স্মৃতি মান্ধানাকে?

আজকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম সেরা তথা সফল ব্যাটার হিসেবে নাম রয়েছে স্মৃতি মান্দানার (Smriti Mandhana)। মাঠে তাঁর চার-ছক্কার ফুলঝুরি দেখে ভক্তরা মুগ্ধ হলেও, এই সাফল্যের নেপথ্যে যে লুকিয়ে রয়েছে এক অকথ্য পরিশ্রম ও লৌহদৃঢ় শৃঙ্খলার ইতিহাস, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক জনপ্রিয় পডকাস্টে নিজের ছোটবেলার সেই কঠিন রুটিন এবং প্রস্তুতির দিনগুলির কথা অকপটে ভাগ করে নিলেন তারকা এই বাঁহাতি ওপেনার।

ভোর ৫টায় শুরু হতো কড়া অনুশীলন

রাজ শামানির সঞ্চালনায় ‘ফিগারিং আউট উইথ রাজ শামানি’ পডকাস্টে স্মৃতি জানান, ছোটবেলায় তাঁর কোচ অমৃতা ক্রিকেটের পাশাপাশি শরীরচর্চা এবং শৃঙ্খলার ওপর সবথেকে বেশি জোর দিতেন। প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠার মধ্য দিয়ে তাঁর দিন শুরু হতো। টানা পাঁচ বছর ধরে এই নির্দিষ্ট রুটিন মেনে নিজেকে তিলে তিলে তৈরি করেছেন তিনি।

স্মৃতির সকালের সেই রুটিনটি ছিল অত্যন্ত কঠিন:

  • সূর্যনমস্কার: ঘুম থেকে উঠেই নিয়ম করে ১২ বার সূর্যনমস্কার করতে হতো তাঁকে।

  • বডি ওয়েট এক্সারসাইজ: এর পরে শরীরের ওজন ব্যবহার করে একাধিক কঠোর ব্যায়াম করতে হতো। স্কোয়াট জাম্প, বার্পি এবং মাউন্টেন ক্লাইম্বারের মতো ক্লান্তিকর ব্যায়ামগুলি ৩০ সেকেন্ড করে মোট পাঁচটি সেটে সম্পূর্ণ করতে হতো তাঁকে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্যাডো ব্যাটিং

ফিটনেসের এই কঠিন পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হতো ব্যাটিংয়ের মূল প্রস্তুতি। কোনো বোলার ছাড়াই নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে নিখুঁত শট খেলার ভঙ্গি ও ফুটওয়ার্ক অনুশীলন করতে হতো তাঁকে, যাকে ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘শ্যাডো ব্যাটিং’ বলা হয়। ভোর ৫টায় শুরু হওয়া এই কড়া অনুশীলন পর্ব চলত সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। কোচের কড়া অনুশাসনে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন নিয়ম করে শেষ করতে হতো তাঁকে।

শুধু শারীরিক কসরতই নয়, ক্রিকেটের টেকনিক ও কৌশলগত জ্ঞান বাড়াতে টেস্ট ম্যাচ দেখার জন্যেও নির্দেশ দিতেন কোচ। ছোটবেলার সেই কঠোর প্রস্তুতি ও একাগ্রতাই যে আজকের স্মৃতি মান্ধানাকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Pratik Saha
  • Pratik Saha