“ভোট চোর” পোস্ট ডিলিট করার কড়া নির্দেশ আদালতের! মহুয়া মৈত্রর হুঙ্কারে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই

সোশ্যাল মিডিয়ায় করা বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে উদ্দেশ্য করে ‘ভোট চোর’ মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর সেই নির্দিষ্ট পোস্ট অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আলিপুর আদালত। তবে আদালতের এই কড়া নির্দেশকে উপেক্ষা করে ফের নতুন পোস্ট করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই তারকা সাংসদ।
আলিপুর দেওয়ানি আদালত-১-এর সিনিয়র বিচারক একতরফা (Ex-parte) আদেশে জানিয়েছেন, গত ৩ ও ৬ অক্টোবর মহুয়া মৈত্র তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোট চোর’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর ‘মালিক’ তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ নাগরিকদের নাম বাদ দিয়েছেন। এই অবমাননাকর ও মানহানিকর পোস্ট নির্দেশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিলিট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি, আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে মহুয়াকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সাংসদ যদি নিজে থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করেন, তবে আবেদনকারী আইটি অ্যাক্টের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাতে পারবেন।
তবে আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসার পরেই দমে যাওয়ার পাত্রী নন মহুয়া। নির্দেশিকা মেনে পোস্ট ডিলিট তো দূর অস্ত, বরং নিজের মন্তব্যের সমর্থনে ও বাকস্বাধীনতার অধিকারকে সামনে রেখে ফের নতুন করে সরব হয়েছেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এমনিতেই বিরোধী শিবিরের নিশানায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশ এবং মহুয়া মৈত্রর অনড় অবস্থান আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক ময়দানকে যে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।