ভোটের আগে ঐতিহাসিক ধাক্কা! তৃণমূলের নাম ও প্রতীক কার দখলে যাবে? নয়া দিল্লি থেকে আসছে মেগা আপডেট

বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তৃণমূল কংগ্রেসের পোশাকি নাম এবং সর্বভারতীয় দলীয় প্রতীক জোড়াফুলের আসল মালিকানা কার হাতে থাকবে? একদিকে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবির, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী—দুটো পক্ষই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দ্বন্দ্ব এবার চরমে উঠেছে। এই বিবাদ নিরসনে আজই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই পক্ষ, আর আজই এই সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। সূত্রের খবর, বিধানসভায় জয়ী বিধায়কদের বড় একটা অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা সমীকরণ তৈরি করেন। এরপর থেকেই দুই শিবির নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে নির্বাচন কমিশনে পাল্লা দিয়ে নথিপত্র জমা দিতে শুরু করে। সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন। আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর গণনা থাকায় এই লড়াই এখন আরও বেশি তাত্পর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ উপনির্বাচনে দুই পক্ষই নিজেদের প্রার্থীর জন্য দলীয় প্রতীক দাবি করায় কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

আজ নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে গত শনিবারও দুই শিবিরের জমা দেওয়া তথ্যাদির ভিত্তিতে ম্যারাথন শুনানি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উপনির্বাচনের আগে যদি আইনি জট না কাটে, তবে কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে প্রতীক সাময়িক স্থগিতও (Freeze) করতে পারে। সবমিলিয়ে জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে যাবে, আজকের এই মেগা বৈঠকের পরই তার একটা স্পষ্ট ছবি সামনে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

Aditi Banik
  • Aditi Banik