ভোটার লিস্টে নাম নেই, এবার সরকারি সাহায্য থেকেও বঞ্চিত মহিলারা! ফুঁসে উঠে বড় আন্দোলনের ডাক বামেদের

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর এবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকেও বড় ধরনের বঞ্চনার শিকার হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির দাবি, এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত মহিলাদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, অনেকের রেশন কার্ড থেকেও নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাম মহিলা সংগঠনটি। এই বিপুল বঞ্চনার প্রতিবাদে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ধর্মতলায় এক বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি নির্বাচন কমিশনে যাওয়ারও ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ
শনিবার সংগঠনের রাজ্য দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগগুলি তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা, রাজ্য সভাপতি জাহানারা খাতুন-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মোনালিসা সিনহা অভিযোগ করেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য পেশ করা এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করা সত্ত্বেও বহু ভোটারের নাম এখনও তালিকায় ফেরানো হয়নি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার এই প্রভাব শুধুমাত্র ভোটাধিকার হরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর কোপ পড়েছে গরিব মানুষের সরকারি সামাজিক সুরক্ষার ওপরও।”
ট্রাইবুনালে ধীর গতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ
মহিলা সমিতির দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুনালের কাজ ব্লক বা স্থানীয় পঞ্চায়েত-পুরসভা ভিত্তিক করা উচিত, যাতে সাধারণ মহিলারা সহজে সেখানে অংশ নিতে পারেন। বাঁকুড়ার মহসিনা খাতুনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংগঠনের অভিযোগ, ট্রাইবুনালে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক হারে মহিলাদের নাম বাদ পড়ার প্রবণতা এবং ট্রাইবুনালে মামলার ধীর গতি নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। সুপ্রিম কোর্টেও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেছেন বাম নেত্রীরা।