ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? সফটওয়্যারের স্বচ্ছতা নিয়ে খোদ সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন!

নভেম্বরের শেষের দিকেই কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভায় পুরভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা আসন্ন এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না—তা নির্ধারণ করতে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পূর্বনির্ধারিত শুনানির দিন এগিয়ে এনে এবার আগামী ১৬ অক্টোবর তা শুনবে শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ জানিয়েছে, আসন্ন পুরভোটের সময়সীমা ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই শুনানির দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।

দ্রুত শুনানির আর্জির নেপথ্যে কী কারণ?

কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নামগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তার আগেই এই জটিলতার নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত শুনানির পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি জানান, আদালতে বর্তমানে মূলত দু’ধরনের আবেদন জমা পড়েছে—একপক্ষ যেমন নিজেদের বাদ যাওয়া নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় তোলার আর্জি জানিয়েছেন, তেমনই অন্যপক্ষের তরফে কিছু নাম বাদ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, সেই মামলাটিকে আদালত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের সফটওয়্যার নিয়েও প্রশ্ন আদালতের

অন্যদিকে, শুনানিকালে পুরো ডিজিটাল প্রক্রিয়া নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। ভোটার তালিকা থেকে নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজে যে কম্পিউটার সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কতটা স্বচ্ছ এবং ত্রুটিমুক্ত, সেই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বিচারপতি বাগচীর এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেন প্রধান বিচারপতিও। তাঁর মতে, নাম বাদ বা তোলার এই প্রক্রিয়ায় কিছু যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে, যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। এখন ১৬ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানিতে শীর্ষ আদালত কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।