ভোটগ্রহণের ঠিক আগে মাঝরাতে বসল রাজস্থান হাইকোর্ট! গ্রেফতারি এড়াতে প্রার্থীর রাতারাতি রক্ষাকবচ পাওয়ার নেপথ্য গল্প

নির্বাচন মানেই টানটান উত্তেজনা আর রাজনৈতিক সমীকরণ। কিন্তু ভোটগ্রহণের ঠিক আগের মুহূর্তে যদি পুলিশি গ্রেফতারি বা আটকের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে কী হতে পারে? রাজস্থানে আসন্ন পুরসভা ও চেয়ারম্যান পদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঠিক এমনই এক অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটের সকালে সম্ভাব্য গ্রেফতারি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাত থেকে প্রার্থীদের বাঁচাতে ছুটির দিন রবিবার মাঝরাত পর্যন্ত একটানা বিশেষ শুনানি চালাল রাজস্থান হাইকোর্ট।

যোধপুরসহ প্রায় ছয়টি ভিন্ন শহরের একাধিক প্রার্থী ও কাউন্সিলর আচমকা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে এসিবি (দুর্নীতি দমন ব্যুরো) বা পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের আটক বা গ্রেফতার করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অক্ষুণ্ণ রাখতে বিকেলে শুরু হওয়া শুনানি গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত।

আদালতের বিভিন্ন বেঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ:

  • কুচেরা কেন্দ্র: প্রধান বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনেই প্রার্থী তেজপাল মিরধার গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।

  • হনুমানগড় ও বিকানের: বিচারপতি কুলদীপ মাথুর এবং বিচারপতি নূপুর ভাটির বেঞ্চ কাউন্সিলর ও প্রবীণ প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দিয়ে সাফ জানিয়ে দেয়, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

  • শ্রীবিজয়নগর ও শ্রীগঙ্গানগর: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুশীল মিধা ও সঞ্জয় মুন্দ্রার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এফআইআরের সময়কাল বিবেচনা করে আদালত যথাক্রমে ৭ ও ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বজায় রাখে।

ছুটির দিনে এমন নজিরবিহীন মধ্যরাতের শুনানি এবং একের পর এক প্রার্থীকে আদালতের রক্ষাকবচ প্রদান রাজনৈতিক মহলে বেশ বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভোটের সকালে এই আইনি স্বস্তি প্রার্থীর লড়াইকে কতটা অক্সিজেন জোগায়, এখন সেটাই দেখার।