“ভূপেন্দ্র ভাই ও গীতা বেনকে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী!” চোখের জল মুছিয়ে দেওয়া সেই মুহূর্তের কথা ফাঁস করলেন পাইলট স্মিতের স্ত্রী

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক হামলায় গুরুতর আহত হন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি যেভাবে ৩০০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাতে তিনি এখন শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের গর্ব। কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁর পরিবারের অন্দরে ঠিক কী ঝড় বয়ে গেছে? কীভাবে সেই ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেন তাঁর স্ত্রী সোনাল মচ্ছর? সম্প্রতি সিএনএন নিউজ১৮-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সমস্ত অজানা কথা শেয়ার করলেন তিনি।
খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল?
স্বামী রক্তাক্ত হওয়ার খবর যখন প্রথম কানে আসে, সেই মুহূর্তের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে সোনাল জানান, তিনি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেই ভাষা বা শক্তিটুকুও তাঁর ছিল না। তবে বন্ধু ও পরিবারের নিরন্তর সমর্থনে তিনি নিজেকে সামলান। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতাল ও সামরিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন স্বামীর সঙ্গে দেখা করে তিনি কিছুটা স্বস্তি পান।
প্রধানমন্ত্রীর ফোন কল ও সান্ত্বনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেবল আহত পাইলট স্মিতের সঙ্গেই নয়, তাঁর বাবা (ভূপেন্দ্র ভাই) ও মায়ের (গীতা বেন) সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। এই প্রসঙ্গে সোনাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য এভাবে সময় বের করবেন? প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত আশ্বাস আমাদের পরিবারকে বিরাট সাহস জুগিয়েছে।”
দেশবাসীর ভালোবাসায় অভিভূত পরিবার
ভারত থেকে শুরু করে সুদূর ইজরায়েল—সর্বত্রই এখন ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে চর্চা চলছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও স্মিতের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। এই বিষয়ে সোনাল জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর নয়, বরং সুস্থ হয়ে ওঠার পর খোদ স্মিতেরই কথা বলা উচিত। স্বামী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবেন—এই আশাতেই বুক বাঁধছেন তাঁর সহধর্মিণী।