ভুয়ো ক্লায়েন্ট, নকল ইনভয়েস! বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রতারণার কৌশল ফাঁস, এখন কোথায় তিনি?

আমেরিকার আর্থিক বাজারে এখন বিতর্কের কেন্দ্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট (Bunkim Brahmbhatt)। তাঁর মালিকানাধীন টেলিকম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা) ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে ব্ল্যাকরকের (BlackRock) প্রাইভেট-ক্রেডিট বিভাগ এইচপিএস ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার্স (HPS Investment Partners) সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান ঋণদাতা সংস্থা।

 

🔍 কী এই জালিয়াতি?

 

বঙ্কিম ব্রহ্মভট্ট ব্রডব্যান্ড টেলিকম (Broadband Telecom) ও ব্রিজভয়েস (Bridgevoice) নামের দুই সংস্থার মালিক ও সিইও। জানা গেছে, তাঁর সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে টেলিকম সেক্টরে কাজ করার দাবি করত। কিন্তু ঋণদাতাদের অভিযোগ, ব্রহ্মভট্টের সংস্থাগুলো ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে ভুয়ো কাস্টমার রিসিভেবল (Accounts Receivable) তৈরি করেছে, যার অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

প্রতারণার কৌশল:

  • নকল ইনভয়েস ও ক্লায়েন্ট: ঋণ পাওয়ার জন্য সংস্থাগুলো নকল ইনভয়েস এবং এমন কিছু ক্লায়েন্টের নাম ব্যবহার করেছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
  • জাল ইমেল ডোমেন: তদন্তে উঠে এসেছে, কোম্পানির বহু ইমেল ও গ্রাহক রেকর্ড নকল ডোমেইন থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। কাগজে যেসব বিশাল ব্যবসার কথা বলা হয়েছিল, তার অনেকটাই ছিল কাল্পনিক।

 

📜 ঘটনার সূত্রপাত: ২০২০ থেকে ২০২৪

 

এই জালিয়াতির সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে, যখন এইচপিএস ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার্স (যা পরে ব্ল্যাকরকের অংশ হয়) প্রথম এই সংস্থাগুলোকে ঋণ দেওয়া শুরু করে।

  • শুরুর দিকে ঋণের পরিমাণ কয়েকশো মিলিয়ন ডলার থাকলেও, ২০২৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার-এ।
  • ২০২৫ সালের মাঝামাঝি, ব্ল্যাকরক যখন একটি রুটিন অডিট শুরু করে, তখনই প্রথম সন্দেহের উদ্রেক হয়।

 

🏃 গা ঢাকা দিলেন ব্রহ্মভট্ট?

 

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ব্ল্যাকরক এবং অন্যান্য ঋণদাতারা নিজেদের টাকা উদ্ধার করতে মরিয়া। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রহ্মভট্টের নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটি-র অফিসটি বন্ধ এবং তিনি কোনো যোগাযোগে সাড়া দিচ্ছেন না।

যদিও ব্রহ্মভট্টের আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক মহলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল এক ব্যক্তির প্রতারণা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী প্রাইভেট ক্রেডিট বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর এটি একটি বড় আঘাত।