ভিডিও ক্লিপই যথেষ্ট নয়’, ঋণ শোধ নিয়ে চাপ! আত্মহত্যাকারী ব্যবসায়ীর চার পাওনাদার পেলেন জামিন

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ঋণদাতার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত চার ব্যবসায়ীকে জামিন দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একটি ভিডিও ক্লিপ আকারে পাওয়া ‘সুইসাইড নোট’-এর অস্তিত্বই অভিযুক্তদের জামিন প্রত্যাখ্যানের জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে না।
একই মামলা সংক্রান্ত একাধিক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি সুবোধ অভয়ঙ্কর পর্যবেক্ষণ করেন যে, মামলাটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্কিত তথ্য জড়িত এবং এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ (Custodial Interrogation) করা জরুরি নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুলাই, যখন মহেন্দ্র নামের এক ব্যক্তি ইন্দোরের জেলা হাসপাতালের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর তিন দিন আগে মহেন্দ্র একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে তিনি ঋণ পরিশোধ নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ীকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউশন এবং অভিযোগকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন যে, এই ভিডিওটিই একটি সুইসাইড নোট এবং প্ররোচনার প্রমাণ হিসেবে এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন যে মহেন্দ্র তহবিল তছরূপ করছিলেন এবং আগেও পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, এই ভিডিওটি ছিল মহাজনেরা যাতে চাপ না দেয়, সেই উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি চাপ সৃষ্টির কৌশল (Deliberate attempt to pressurise)।
আদালত মূলত অভিযুক্ত পক্ষের যুক্তি গ্রহণ করে জানায়: “নিহত ব্যক্তি একটি ভিডিও ক্লিপের আকারে সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, শুধুমাত্র এই কারণেই অভিযুক্তদের জামিনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না, যখন তাঁদের কোনও অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস (Criminal antecedents) নেই এবং তাঁরা যে অর্থ দিয়েছিলেন তা তাঁদের ব্যবসার অংশ মাত্র।”
হাইকোর্ট এই মামলায় তিন ব্যবসায়ী— জিতেন্দ্র চাওলা, হেমন্ত ভার্মা এবং অরবিন্দ পারমারকে আগাম জামিন (Anticipatory Bail) এবং ২১ জুলাই থেকে হেফাজতে থাকা অন্তিম ওরফে কমল জৈনকে নিয়মিত জামিন (Regular Bail) দিয়েছে। প্রত্যেককে ২৫,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং একজন জামিনদার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই আদেশ কার্যকরভাবে এটাই তুলে ধরে যে, বিচারের সময় একটি সুইসাইড নোটের প্রমাণ হিসেবে মূল্য থাকলেও, অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জামিন প্রত্যাখ্যানের ন্যায্যতা দিতে পারে না।