ভিক্ষাবৃত্তি ও পণ্য বিক্রির আড়ালে লুঠপাট! শীতের মরশুমে সক্রিয় ‘বানজারা’ ও ‘বদায়ু’ গ্যাং, বীরভূমে সতর্ক পুলিশ

শীতকাল পড়তেই জেলাজুড়ে চুরি ও লুঠপাটের আতঙ্ক বাড়ছে। ভিক্ষাবৃত্তি বা পণ্য বিক্রির আড়ালে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটাচ্ছে একদল দুষ্কৃতী। আপনি যখন দুপুরের ভাত ঘুমে ব্যস্ত, তখনই চোখের নিমেষে সোনার গয়না, টাকা নিয়ে চম্পট দিচ্ছে তারা।
কারা এই দুষ্কৃতীরা?
পুলিশের খাতায় এই দুষ্কৃতীরা মূলত ‘বানজারা গ্যাং’ (বিহার, হরিয়ানা থেকে আসা) এবং ‘বদায়ু গ্যাং’ (উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা) নামে পরিচিত। এরা মূলত মহিলা এবং এদের কোলে প্রায়শই থাকে ফুটফুটে শিশু। এই শিশুদের তারা বাংলার মানুষের সহানুভূতি আদায়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
শীতকালই অপরাধের মরশুম:
জানা গেছে, গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালে নয়, বরং প্রধানত শীতকালই এই ধরনের অপরাধের মরশুম। ইতিমধ্যেই এই গ্যাংয়ের মহিলা সদস্যরা বীরভূম জেলায় ঢুকে পড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিক্ষা করার ছলে বা পণ্য বিক্রির আড়ালে বিভিন্ন বাড়িতে ও মন্দিরে ঢুকে সবটা দেখে নিচ্ছে। এরপর সুযোগ বুঝে লুট করে চম্পট দিচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন স্টেশন চত্বর ও ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ীভাবে তাঁবু খাটিয়ে থাকছে। কেউ ভিক্ষা করছে, কেউ বা বেলুন, ছোটদের মাটির খেলনা তৈরি করে বিক্রি করছে। পুরুষ সদস্যরা পাখি ধরতে বা শীতের পোশাক নিয়ে জনবসতি এলাকায় ঢুকছে।
পুলিশের সচেতনতা ও সতর্কতা:
এই সমস্ত গ্যাংয়ের কাজকর্ম রুখতে বীরভূমের মুরারই থানার পুলিশ প্রশাসন এবার সচেতনতার উপর জোর কদমে নেমে পড়েছে। মুরারইয়ের রাজগ্রাম এলাকায় টোটোয় মাইক বেঁধে প্রচার করতে দেখা যায় পুলিশকে।
মাইকে জনগণকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে:
পরিচয়পত্র যাচাই: বিহার, ইউপি, হরিয়ানা থেকে আসা কোনো ব্যক্তিকে ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভাল করে পরিচয়পত্র দেখে নিন।
সন্দেহ হলে খবর দিন: কোনো ধরনের সন্দেহ হলেই থানায় জানান।
ফাঁকা বাড়ি নয়: ঘর ফাঁকা রেখে যাবেন না। পরিচিত কাউকে বাড়িতে রেখে তবেই যাবেন।
তাঁবু নজরে এলে: যদি দেখেন এলাকার কোনো ফাঁকা জায়গায় গ্যাং ঘাঁটি গেড়েছে, তাহলে অতিসত্বর থানায় খবর দিন।
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ নিষেধ: বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে অন্যদের কাছে কেনাকাটা করুন, কোনো ভাবেই তাদের বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দেবেন না।