ভিআইপি ট্রিটমেন্টে কাটছে দিন! গাজর-বিনসের ডায়েটে হঠাৎ কেন সেলিব্রিটি হয়ে উঠল ৫ ওরাংওটাং?

সাধারণত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় দেখা মেলে এমন বিরল প্রজাতির ৫টি ওরাংওটাং শাবককে নিয়ে বর্তমানে চরম কৌতূহল তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। ওড়িশার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বর্তমানে ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত নন্দনকানন চিড়িয়াখানার কোয়ারেন্টাইন সেলে একেবারে ভিআইপি পরিচর্যায় দিন কাটছে তাদের। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট অনুযায়ী, শাবকগুলির শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস বজায় রয়েছে।
উদ্ধারের পর থেকেই এই বিশেষ অতিথিদের সুস্থ করে তুলতে নানা অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শাবকগুলির পুষ্টির কথা মাথায় রেখে তাদের খাদ্যতালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এখন তাদের পাতে নিয়মিত রাখা হচ্ছে ভাপানো গাজর ও বিনস। বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে তাদের শক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, তাদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কোয়ারেন্টাইনের অন্দরেই মই ও দড়ির বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই দড়ি ধরে ঝুলে থাকা কিংবা মই বেয়ে ওপরে ওঠার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো অভিজ্ঞতা লাভ করছে বলে জানিয়েছেন নন্দনকাননের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রদীপ মিরাসে।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওড়িশার বালেশ্বর জেলার উদয়পুর বন বিভাগের রানকোথার বড়পাহি এলাকা থেকে এই বিরল প্রাণীগুলিকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে এই ৫টি ওরাংওটাং একই মায়ের সন্তান নয়। এই চাঞ্চল্যকর পাচারচক্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগসূত্রও মিলেছে, যার জেরে দিঘা থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের কৃমি নিয়ন্ত্রণের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। ভিনরাজ্য থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিরল শাবকদের ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।