‘ভারত-চীন একে অপরের শক্তি থেকে শিখুক!’ ব্রিকস বৈঠকের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে ঐতিহাসিক আলোচনায় জিনপিং

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নয়াদিল্লির মাটিতে পা রেখে চিনা প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত ও চীন একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ উন্নয়ন অর্জন করতে পারে। বিগত বছরগুলোতে সীমান্ত উত্তেজনার আবহে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের এই মুখোমুখি বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। জবাবে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব সফল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জিনপিং। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিনপিং উল্লেখ করেন যে গত কয়েক বছরে তাঁদের মধ্যে ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি হাত মিলিয়ে চলে, তবে তা গ্লোবাল সাউথ এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
চলতি বছর ব্রিকস সহযোগিতার ২০তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ টেনে শি জিনপিং বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একপাক্ষিকতা এবং ক্ষমতার রাজনীতি বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে রক্ষা করতে ভারত ও চীনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। একটি ন্যায়সঙ্গত বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে সওয়াল করে জিনপিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দুই দেশ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠলেই বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।