ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত, ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে আসছে জ্যাভলিন ও এক্সকালিবার সিস্টেম

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নয়াদিল্লির অনুরোধ মেনে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরবরাহে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই প্যাকেজে ভারতীয় সেনার নির্ভুল হামলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে রয়েছে জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট এবং এক্সকালিবার জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত আর্টিলারি রাউন্ড।
কৌশলগত সম্পর্কের নতুন মাইলফলক:
আমেরিকার ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (DSCA) জানিয়েছে, ভারতের অনুরোধে ১০০টি FGM-148 জ্যাভলিন, ২৫টি লঞ্চ ইউনিট, এবং ২১৬টি এক্সকালিবার স্মার্ট আর্টিলারি রাউন্ড পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্যাকেজে শুধু অস্ত্র নয়, সঙ্গে অপারেটর প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা সহ সম্পূর্ণ লাইফসাইকেল সাপোর্টও থাকবে।
DSCA তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, এই সামরিক লেনদেন ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে। এটি ভারতকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলায় উন্নত ক্ষমতা দেবে। এজেন্সি বিশ্বাস করে, ভারত এই অত্যাধুনিক সিস্টেমকে সহজেই সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কাঠামোর মধ্যে একীভূত করতে পারবে। এজেন্সি আরও জানিয়েছে, এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবে না।
জ্যাভলিন ও এক্সকালিবার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল: জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘শোল্ডার-লঞ্চড’ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ T-72 এবং T-90 ট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে এর কার্যক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
‘টপ-অ্যাটাক’ মোড: এটি ট্যাঙ্কের সবচেয়ে দুর্বল উপরের অংশে আঘাত হানে।
সফট-লঞ্চ: বাঙ্কার বা ঘরের ভিতর থেকেও নিরাপদে ছোড়া যায়।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য কমান্ড লঞ্চ ইউনিট।
এক্সকালিবার আর্টিলারি রাউন্ড: এই জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত আর্টিলারি রাউন্ডগুলি ভারতীয় সেনাকে মিলিমিটার-স্তরের নির্ভুল হামলার ক্ষমতা দেবে। সীমান্ত এলাকায় কম ‘পার্শ্ব-ক্ষতি’ (collateral damage) নিশ্চিত করতেও এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে সহায়ক।
চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন আমেরিকার কংগ্রেসের সামনে এই প্যাকেজটি পর্যালোচনার জন্য রয়েছে। কংগ্রেসের সম্মতি পেলেই দ্রুত এই অত্যাধুনিক সিস্টেমগুলি ভারতীয় সেনার হাতে পৌঁছবে, যা দেশের সীমান্ত প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে।