ভারতের মাটিতেই বড় বার্তা ব্রিকসের! সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থান, ডব্লিউটিও সংস্কার নিয়ে বড় ঘোষণা

একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বড়সড় ঐকমত্যের বার্তা দিয়ে প্রকাশ্যে এল ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লেয়েশন’। সন্ত্রাসবাদ, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলি।
ঘোষণাপত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের পক্ষে ফের জোরালো সওয়াল করা হয়েছে। বৈষম্যহীন, উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কেন্দ্রিক এই ব্যবস্থায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ দুই স্তরের বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং নতুন অ্যাপিলিয়েট বডি সদস্য নিয়োগের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
সংস্থার কার্যকারিতা এবং প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস। একইসঙ্গে ইথিওপিয়া ও ইরানের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেছে জোটের দেশগুলি। পাশাপাশি, আফ্রিকার তিপ্পান্নটি দেশের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা সম্প্রসারণের চিনা উদ্যোগের কথাও ঘোষণাপত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে ব্রিকস। যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদই যে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছে জোট। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের ডাক দিয়ে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম বা জাতির সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। রাষ্ট্রসংঘের তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমপরিবর্তনশীল ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্রিকস জোট। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।