ভাইয়ের বিয়ে মিটিয়ে কর্মস্থলে ফেরা হলো না! জাতীয় সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল একই পরিবারের ৪ জনের!

উৎসবের আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল চিরকালের শোকে। ভাইয়ের বিয়ের আনন্দ-উৎসব মিটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে ঘটে গেল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতির ওমনি বাসের পেছনে চার চাকার গাড়ির সজোরে ধাক্কায় প্রাণ হারালেন স্ত্রী ও বন্ধুবান্ধব-সহ ৪ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বেডে লড়াই করছেন আরও ৩ জন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর ত্রিচী-চেন্নাই জাতীয় সড়কে, পেরামবালুরের থুরাইমঙ্গলমের কাছে।

বিয়ের আনন্দ থেকে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি

পুলিশ সূত্রে খবর, রামনাথপুরম জেলার ওরিভায়াল গ্রামের বাসিন্দা কার্তি (৩৮) চেন্নাইয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। সম্প্রতি তাঁর ছোট ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে গ্রাম থেকে নেমন্তন্ন এসেছিল। স্ত্রী সুরিয়া এবং অফিসের কয়েক জন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গ্রামে ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কার্তি।

বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে স্ত্রীকে নিয়ে চেন্নাইয়ের কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে চার চাকার গাড়ি করে রওনা দেন তাঁরা। কিন্তু পথেই তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল চরম বিপদ।

বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা, দুমড়ে-মুচড়ে গেল গাড়ি

ত্রিচী-চেন্নাই জাতীয় সড়ক ধরে তাঁদের গাড়িটি থুরাইমঙ্গলমের কাছে পেরামবালুরের দিকে ঢুকছিল। ঠিক সেই সময় সামনে থেকে দ্রুত গতিতে যাওয়া একটি ওমনি বাসের পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে কার্তিদের গাড়িটি। বিকট শব্দে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গাড়িতে থাকা কাজা (কালীস্বরণ) এবং প্রভাকরণ নামের দুই যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পেরামবালুর সিটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসক কার্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর স্ত্রী সুরিয়াও।

চালক-সহ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৩ জন

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়ির চালক কান্নাদাসন এবং দুই সহযাত্রী জন কেনেডি ও সরন্যা। বর্তমানে পেরামবালুর সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।

পেরামবালুর পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিহত চারজনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘাতক ওমনি বাসের চালক রাজাসীলনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। ভাইয়ের বিয়ের আমেজ কাটতে না কাটতেই এই মর্মান্তিক পরিণতির খবরে পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।