বিদেশি ছাড়াই বাজিমাত হাবাসের টোটেমের! রোহিত-আকাশদের কামড়ে কাস্টমস বধ ইস্টবেঙ্গলের!

সামনেই ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) এবং এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তার ওপর বৃষ্টির মরশুমে হোম গ্রাউন্ডের কাদামাঠ। এই পরিস্থিতিতে আইএফএ শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই বড় ঝুঁকি নিলেন না লাল-হলুদ হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ও বিনো জর্জ। কোনও বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই নামানো হয়েছিল দল। আর সেই ঘরোয়া প্রদীপের আলোতেই কাস্টমসকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আইএফএ শিল্ড অভিযান জয় দিয়ে শুরু করল ইস্টবেঙ্গল।

শুরুতে গোল খেয়ে চাপ, তারপরই ঘুরে দাঁড়ানো

কলকাতা লিগে আলো ছড়ানো তরুণদের ওপরই বাজি ধরেছিল ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের নেতৃত্বে ছিলেন সৌভিক চক্রবর্তী, রোহিত কুমার, রোহিত দানু ও নরেন্দ্র গেহলতদের মতো সিনিয়র ভারতীয় ফুটবলারেরা। তবে ম্যাচের শুরুটা লাল-হলুদ ব্রিগেডের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না।

ম্যাচের ১২ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে গোল করে কাস্টমসকে এগিয়ে দেন রানা ঘরামি। কাদাভরা মাঠে দ্রুত গতিতে বারবার লাল-হলুদ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিল কাস্টমসের ফরোয়ার্ড লাইন। তবে দলের গোলকিপার গৌরব শাউ একাধিক নিশ্চিত বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন।

এরপরই কামব্যাক করে লাল-হলুদ। ২৯ মিনিটে বরিসের বাঁকানো কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান রোহিত কুমার (১-১)।

দ্বিতীয় অর্ধে রোহিত-আকাশের দাপট

প্রথমার্ধের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতির পর অন্য ইস্টবেঙ্গলকে দেখা যায়। ৫২ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের বাড়ানো মাপা পাস থেকে লাল-হলুদের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোহিত দানু (২-১)।

খেলার একদম শেষ পর্বে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় এবং জয়সূচক গোলটি করেন কলকাতা লিগের আবিষ্কার আকাশ হেমব্রম নিজেই। কাস্টমসের সমস্ত প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে ৩-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।

আইএফএ শিল্ডে ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব এফসি। প্রথম ম্যাচে দলের তরুণ দেশীয় ফুটবলারদের এমন লড়াকু মানসিকতা ও পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট ইস্টবেঙ্গলের কোচিং স্টাফেরা।