ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড নেপাল! পরম বন্ধুর দায়িত্ব পালন করে ভারতকে কী বড় সুবিধা দিল নয়াদিল্লি?

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত হিমালয়ের কোলের দেশ নেপাল। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় ইতোমধ্যেই ১,৩৬৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ আরও বহু। বন্যার প্রভাবে দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশী নেপালের পাশে পরম বন্ধুর মতো বাড়িয়ে দিল ভারত। ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নেপালকে অতিরিক্ত ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (১৮ ঘণ্টা) নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে (NEA) এই বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সংকটে নেপালের পাশে ভারত: ৫টি মূল তথ্য

  • বিদ্যুৎ সরবরাহ: অতিরিক্ত ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে নেপাল।

  • মেয়াদ: ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।

  • দৈনিক সময়কাল: প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা (০০:০০ থেকে ১৮:০০ টা পর্যন্ত)।

  • সংকেটের কারণ: ভয়াবহ বন্যায় নেপালের নিজস্ব জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত।

  • সঞ্চালন ব্যবস্থা: ভারতের নির্ধারিত ২টি বিশেষ হাই-ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ পরিবাহিত হবে।

ত্রাণসামগ্রী থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ: প্রতিবেশী প্রথম নীতি

নেপালের এই অনভিপ্রেত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শুরু থেকেই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে ভারত। বায়ুসেনার হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার পাশাপাশি ইতোমধ্যেই প্রায় ১৩০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে প্রতিবেশী দেশটিতে। এবার তাদের অচল হয়ে পড়া পরিকাঠামো সচল করতে ও বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো।

সাহায্যের ক্ষেত্রভারতের মানবিক উদ্যোগ
জরুরি উদ্ধারকাজবায়ুসেনার হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার।
ত্রাণ সহায়তা১৩০ টনেরও বেশি প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রেরণ।
বিদ্যুৎ পরিকাঠামোদুটি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ।

নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের এই বিদ্যুৎ রফতানি প্রতিবেশী দেশটির সাধারণ মানুষ ও জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।