১১ বছর ধরে আটকে টাকা! রোজভ্যালির আমানতকারীদের ৬০০ কোটি ফেরাতে কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট

রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা আমানতকারীদের জন্য এল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (ADC)-র ধীরগতি ও কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমানতকারীদের সমস্ত বকেয়া অর্থ ফেরানোর কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত।

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের কড়া পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিগত ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১১ বছরের কাজের ধারা পর্যালোচনা করে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বণ্টনের মূল দায়িত্ব পালনে এডিসি (ADC) কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। নথি অনুযায়ী, এডিসির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫৫.৪৫ কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১০টি সম্পত্তি নিলাম হয়েছে এবং ৮০টির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। কমিটির প্রচার অপ্রতুল হওয়ার কারণে বহু আমানতকারীই এই প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে গিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

পাশাপাশি, সহযোগী সংস্থা চকলেট হোটেলস প্রাইভেট লিমিটেডের (CHPL) সঙ্গে হোটেল পরিচালনার চুক্তি করার কোনো আইনি অধিকার এডিসির ছিল না বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। সেই কারণে অনুমোদনহীন ওই চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী দিনের জন্য আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা

আমানতকারীদের অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আদালত একাধিক কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে:

  • শেষবারের মতো ৫ মাসের সময়সীমা: এডিসিকে শেষবারের মতো মাত্র পাঁচ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে থাকা ৫৫০ কোটি টাকা আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম রিপোর্ট পেশ করে মোট ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি ক্লেমের ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন শুরু করতে হবে।

  • তালুকদার কমিটির হাতে দায়িত্ব: আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রাক্তন বিচারপতি এস পি তালুকদার কমিটির হাতে হস্তান্তর করতে হবে। এডিসিকে ওই কমিটির সঙ্গে একীভূত (Merge) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অডিট ও অন্যান্য তদন্ত: আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএফআইও (SFIO)-কে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ইডিকে বাজেয়াপ্ত না-হওয়া সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আমানতকারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক যন্ত্রণা লাঘব করতে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।