‘ভজন গেয়েও কেরিয়ার গড়া সম্ভব!’ কলকাতায় প্রথমবার পা রেখে বিস্ফোরক দাবি মৈথিলী ঠাকুরের

দিল্লি থেকে পুণে কিংবা বেঙ্গালুরু—চেনা পার্টি-সংস্কৃতির বৃত্ত ভেঙে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এখন দেশজুড়ে নতুন ট্রেন্ডের জোয়ার। নাইটক্লাব বা কাফের চেনা ভিড় ছেড়ে জেন জি (Gen Z) এখন ঝুঁকছে ভজন ও কীর্তনের দিকে। এই নতুন ধারার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভজন ক্লাবিং’। আর এই ট্রেন্ডকেই এবার আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে কলকাতায় আসছে প্রথমবার ‘ভজন জ্যামিং ফেস্টিভাল’ (KRISHVI Bhajan Jamming Festival)।

কিংবদন্তি অনুপ জলোটা, সুরেলা কণ্ঠের অধিকারিণী মৈথিলী ঠাকুর এবং কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পীদের বিশেষ ম্যাশআপে জমজমাট হতে চলেছে এই আসর। আধ্যাত্মিকতা ও ফিউশন বিটের মেলবন্ধনে এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকতে মুখিয়ে রয়েছে তিলোত্তমা।

এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শহরে এসে জনপ্রিয় গায়িকা তথা বিহারের বিজেপি বিধায়ক মৈথিলী ঠাকুর বলেন, “ভজন জ্যামিং আসলে সমবেত ভক্তি বা নামগান। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি ভক্তির এক ধরণের ‘রিব্র্যান্ডিং’। গত ছয় মাস ধরে এর প্রস্তুতি চলছে এবং গোটা দেশেই আধ্যাত্মিক চেতনার একটা জাগরণ দেখা যাচ্ছে।” ভজন গেয়েও যে সফল কেরিয়ার গড়া সম্ভব, সে কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি।

তবে কেবল সঙ্গীত নয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেছেন মৈথিলী। সংরক্ষণ নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে বঞ্চিতদের সমান সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই অন্য শ্রেণির যুবসমাজের উদ্বেগ শোনাও সমানভাবে দরকার। সমাজ যাতে ফের জাতি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত না হয়, সে বিষয়ে বার্তা দেন তিনি।

পাশাপাশি, পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘পদ্মাবত’ ছবিতে ‘জোহর ব্রত’ বা আত্মাহুতির উপস্থাপনা নিয়ে অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মৈথিলী। স্বরার মন্তব্যকে ‘কুৎসিত ও অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকলে সেই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সবমিলিয়ে, সঙ্গীত ও নানা বিতর্কিত মতামতের জেরে বর্তমানে শিরোনামে উঠে এসেছেন এই তরুণী শিল্পী।