বেতন বাড়ছে ১৪২% পর্যন্ত! কোন গ্রেডে কত টাকা ঢুকবে ব্যাংকে? জারি হলো পে-স্কেলের অফিসিয়াল আদেশ

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি! জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে বাড়তি বেতন
দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল চর্চিত নতুন বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন অবশেষে জারি করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই থেকেই এই নতুন বেতন স্কেল কার্যকর বলে গণ্য হবে। শনিবার বিকেলে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ ও সরকারি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন গঠিত সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে বকেয়া হিসেব করে সব সরকারি কর্মচারীরা নতুন হারে বর্ধিত বেতন পাবেন।
কীভাবে ও কত ধাপে মিলবে এই বর্ধিত বেতন?
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে কয়েকধাপের একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মূল বেতনের হার ধাপে ধাপে বাড়বে:
প্রথম ধাপ (জুলাই ২০২৬ – ডিসেম্বর ২০২৬): প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি বেতন পাওয়া শুরু করবেন।
দ্বিতীয় ধাপ (জানুয়ারি ২০২৭ – জুন ২০২৭): প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের জন্য কার্যকর হবে ৭৫ শতাংশ।
চূড়ান্ত ধাপ (জুলাই ২০২৭ থেকে): ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেলের শতভাগ সুবিধা ভোগ করবেন। সেই সাথে তখন থেকেই স্বাভাবিক বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) কার্যকর হতে শুরু করবে।
তাছাড়া, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও মোবাইল ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাসমূহ ২০২৮ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির হার ও নতুন স্কেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এবারই প্রথম সর্বনিম্ন গ্রেডের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিচে গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
বিশেষ সংযোজন ও পেনশনভোগীদের প্রাপ্তি
নতুন এই বেতন কাঠামোতে বেশ কিছু অভিনব পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে: ১. প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: ইতিহাসজুড়ে এই প্রথমবার কোনো সরকারি পে-স্কেলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন চাকরিজীবীদের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা যুক্ত করা হয়েছে। ২. মোবাইল ভাতা: নতুন পে-স্কেলের আওতায় সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বজনীন মোবাইল ভাতার সুবিধা পাবেন। ৩. পেনশনভোগীদের সুযোগ: দেশে থাকা প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীও ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই তাঁদের নির্ধারিত স্ল্যাব অনুযায়ী নতুন স্কেলের সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
বাজেটে বিশাল বরাদ্দ ও পটভূমি
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত সরকারি কর্মচারী রয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে যে, পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ পুরো পে-স্কেলটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হবে। যার মধ্যে কেবল চলতি অর্থবছরের বাজেটেই ৪৪ হাজার কোটি টাকা আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ এক যুগের ব্যবধানে ২০২৫ সালে নতুন জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুপারিশগুলো অনুমোদন দিয়ে এই ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপন কার্যকর করল।