বিশ্বজুড়ে যত কালো টাকা লুকিয়ে, তা দিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য ল্যাপটপ কেনা সম্ভব! পরিসংখ্যান দেখলে চোখ কপালে উঠবে

বিশ্বজুড়ে কালো টাকার বাড়বাড়ন্ত এবং অর্থনৈতিক অপরাধ যেভাবে মহামারীর রূপ নিচ্ছে, তা মানবসভ্যতার সামনে এক বিরাট সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ৪৩তম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অপরাধ বিষয়ক সিম্পোজিয়ামে যোগ দিয়ে এই বিষয়ে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। বিশ্বজুড়ে পাচার হওয়া এবং জমা হওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ বিচার করতে গিয়ে তিনি যে পরিসংখ্যান সামনে এনেছেন, তা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে।
প্রধান বিচারপতির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কালো টাকার যে বিশাল পাহাড় জমে রয়েছে, তা দিয়ে পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের প্রত্যেকের জন্য একটি করে দুর্দান্ত ল্যাপটপ কিনে ফেলা সম্ভব। শুধু তাই নয়, ৮০০ কোটি মানুষকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার পরও কোটিরও বেশি টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যাবে! পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে অর্থ পাচারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া কালো টাকার পরিমাণ ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হারকে বহু পিছনে ফেলে যেভাবে এই অবৈধ তহবিলের আকার বাড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
অর্থনৈতিক অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে সিজেআই সূর্যকান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, সবচেয়ে উদারভাবে হিসেব করলেও সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি অবৈধ উপায়ে অর্জিত মোট সম্পদের ১ শতাংশেরও কম পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত ১০০ টাকার মধ্যে ৯৯ টাকাই অপরাধীদের পকেটে থেকে যায়, আর আইনের হাত কেবল শূন্যই পড়ে থাকে। এই কালো টাকা শুধু অর্থ পাচার বা দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর হাত ধরে মদত পাচ্ছে মাদক ও মানব পাচারের মতো জঘন্য সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ।
ভারতবর্ষের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির চিত্রটাও কম উদ্বেগের নয়। দেশে নথিভুক্ত অর্থনৈতিক অপরাধের গ্রাফ লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে যেখানে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৮টি, তা বেড়ে ২০২৪ সালে ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৭১টিতে গিয়ে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে জালিয়াতির মাধ্যমে লুটের পরিমাণও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অপরাধের এই বিশাল সাম্রাজ্য দমনের জন্য শুধু দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বিশ্বজুড়ে সমস্ত দেশের আদালত এবং তদন্তকারী সংস্থাকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালাতে হবে বলেই মত প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি।