বিয়ের ফাঁদে ভারতে এনে চার মাস বন্দি! নিজ ঘরেই স্ত্রীকে বন্ধুদের হাতে সঁপে দিল স্বামী, তারপর…

হায়দরাবাদের কাঞ্চনবাগে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে ১৮ বছর বয়সী এক মায়ানমার তরুণীর ওপর নারকীয় যৌন নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিয়ের পর প্রায় চার মাস ধরে তরুণীকে নিজ ঘরে বন্দি রেখে নিজের বন্ধুদের দিয়ে লাগাতার গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খোদ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এই শিউরে ওঠা ঘটনায় জড়িত থাকা তিন অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার মূল খলনায়ক অর্থাৎ অভিযুক্ত স্বামী এখনও পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, নির্যাতিতা তরুণী মায়ানমারের নাগরিক হলেও কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারে বসবাস করছিলেন। সেখানেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মে মাসে তরুণীর পরিবারের অজান্তেই তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে আসে অভিযুক্ত। হায়দরাবাদে পৌঁছানোর তিন-চার দিন পরই হাফিজবাবা নগরে এক কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় এবং কাঞ্চনবাগে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে তারা।

বিয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পাল্টে যায় চিত্র। স্বামী তার তিন বন্ধু—আহমদ মুজিব, নূর কামাল এবং জিয়া-উর-রহমানকে সেই বাড়িতে নিয়ে আসে। অভিযুক্তরা মায়ানমারের বাসিন্দা হয়ে বর্তমানে বালাপুরে থাকত। স্বামী বাইরে থেকে তালা দিয়ে দরজার চাবি নিজের কাছে রেখে দিত এবং বন্ধুদের ঘরে পাঠিয়ে তরুণীর ওপর শারীরিক অত্যাচার চালাত। প্রতিবাদ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। সম্পূর্ণ অচেনা শহরে ভয়ে ও ভাষার সমস্যার কারণে এতদিন মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হন তরুণী।

অবশেষে গত ২৩ অক্টোবর ঘরের বাড়িওয়ালা বকেয়া ভাড়ার জন্য এসে তালা ভেঙে তরুণীকে উদ্ধার করেন। মুক্তির পর তরুণী আত্মীয়ের সহযোগিতায় কাঞ্চনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে মামলা দায়ের করে পুলিশ তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পলাতক স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।