বিয়ের আগের দিনই মর্মান্তিক পরিণতি! বাঁশঝাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ

দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের জামগড়া গ্রামে শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে বাঁশঝাড়ের সামনে থেকে এক তরুণ ও তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের নাম সুকুমার বাগদি ও বিউটি বাগদি। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবক অন্ডালের দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা এবং তরুণীটি জামগড়া গ্রামেরই বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমারের মামার বাড়ি জামগড়া গ্রামে। সেই সুবাদেই বিউটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে এই পরিচয় গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে রূপ নেয়। তবে তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সামাজিক ও পারিবারিক নানা জটিলতা। সুকুমার আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং অন্যদিকে বিউটির বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়ে গিয়েছিল বীরভূমের দুবরাজপুর এলাকায়। আগামী রবিবারই ছিল বিউটির বিয়ের দিন। বিয়ের ঠিক আগের দিনই তাঁদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের রোল উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিধান বাগদি জানান, “ওরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতো। রবিবার মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সম্ভবত নিজেদের ভালোবাসার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই এমন চরম পথ বেছে নিয়েছে তাঁরা।”
শনিবার সকালে গ্রামের মানুষজনই প্রথম মৃতদেহ দুটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দ্রুত খবর দেওয়া হয় ফরিদপুর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ এখন দুই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের জটিলতা ও বিয়ের চাপের কারণেই হয়তো এই যুগল আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে শোকের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে, তা গ্রামবাসীদের চোখেমুখে স্পষ্ট। দুই পরিবারের সদস্যরাই এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে পুলিশ সব দিক থেকেই তদন্ত চালাচ্ছে।