বিমান থেকে নামতেই বড় ধাক্কা! যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের আগেই আটক অভিজিৎ দিপকে!

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে পূর্বঘোষিত ‘যন্তর মন্তর’ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই চরম নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। শনিবার সকালে বিমান থেকে দিল্লিতে পা রাখামাত্রই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে-কে আটক করল দিল্লি পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সিজেপি-র আরও দুই বিশিষ্ট সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও বিমানবন্দর চত্বর থেকেই প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কোটি কোটি ভোটার বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে আজ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পুলিশ এই বিক্ষোভের কোনো অনুমতি দেয়নি। আন্দোলন প্রতিহত করতে দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই গোটা রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় নিষেধাজ্ঞার মতো একাধিক কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি এবার বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি নেতাদের আটক করার মতো বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন।
সূত্রের খবর, মুম্বই থেকে বিমানযোগে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান অভিজিৎ দিপকে। প্লেন থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও গোয়েন্দা আধিকারিকরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন এবং বিমানবন্দর চত্বর থেকেই তাঁকে ও তাঁর দুই সহকর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শনের যে ডাক সিজেপি দিয়েছিল, তার মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই নেতারা। ফলে তাঁদের আটকের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের হাওয়ায় বড় ধাক্কা দিল পুলিশ।
এদিকে, এই গ্রেপ্তারি ও আটকের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতেই সরকার একনায়কসুলভ আচরণ করছে। অন্যদিকে, দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন সংবেদনশীল পয়েন্টে এখনও পুলিশি তল্লাশি ও কড়াকড়ি অব্যাহত রয়েছে।