বিপদ ছিল মাথার ওপর! ঝোড়ো হাওয়ায় কাঁপতে থাকা মেসি মূর্তিকে নামিয়ে আনল প্রশাসন, জানুন বিস্তারিত

ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত ৭০ ফুট উচ্চতার বিশালাকার মূর্তিটি অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে মেসি-ভক্তদের উচ্ছ্বাসের মাঝে মূর্তিটি উন্মোচন করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। কিন্তু উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই এই মূর্তিটি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সোমবার সকালে হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে অত্যন্ত সাবধানে মূর্তিটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

গত মে মাসের শেষদিকে যখন কলকাতায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়, তখন এই বিশাল কাঠামোটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে দেখা গিয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মূর্তির কাঠামোগত নিরাপত্তা অত্যন্ত দুর্বল। কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মূর্তিটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তারা। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ নড়েচড়ে বসে। প্রথমে শক্ত দড়ি দিয়ে মূর্তিটি বেঁধে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে পূর্ত দপ্তর (PWD) এবং আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞ টিমকে তলব করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূর্তির মূল কাঠামোতে ত্রুটি না থাকলেও, যে কংক্রিটের বেদির ওপর ৭০ ফুট উচ্চতার এই বিশাল ভাস্কর্যটি বসানো হয়েছিল, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি করা হয়নি। ফাউন্ডেশনের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছিল। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রশাসন মূর্তিটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে জনপ্রিয় ফুটবলারের মূর্তির শিল্পমূল্য ও কাঠামো অক্ষত রাখার স্বার্থে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে না; বরং হাইড্রোলিক ক্রেনের সাহায্যে সেটিকে সাবধানে নামিয়ে অন্যত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিতর্কিত ও দুর্বল কংক্রিটের বেদিটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রবিবার রাত থেকেই গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। সোমবার সকাল থেকে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় অপসারণ প্রক্রিয়া। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশেপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রিয় তারকার মূর্তির প্রতি আবেগ থাকলেও, মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো আপস করা অনুচিত। বিশেষ করে সামনেই বর্ষাকাল, এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো প্রশাসনের এই সাহসী সিদ্ধান্ত বড় বিপর্যয় থেকে শহরকে বাঁচাল বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।