“একদিকে মোদী, একদিকে আমি, বিচারক মোহন ভাগবত!” ২৪ ঘণ্টার মাথায় রাহুলের মহাবোমা, পাল্টা রিজিজুর নজিরবিহীন তোপ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও চরম পারদ চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা এক মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁকে সরাসরি প্রকাশ্য বিতর্কে (Open Debate) বসার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তিনি। একধাপ এগিয়ে এই বিতর্কের বিচারক হিসেবে আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকে মেনে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। তবে রাহুলের এই আক্রমণকে তীব্র ভাষায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাহুলের দ্বিতীয় বার্তা ও ওপেন ডিবেটের ডাক: মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রথম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
রাহুলের কটাক্ষ, “প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেন। তাই সাহস থাকলে যেকোনো মঞ্চ ও জায়গা বেছে নিয়ে আমার সাথে মুখোমুখি বিতর্কে বসুন।” প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডরো মত’ (ভয় পাবেন না) বলে খোঁচা দিয়ে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, “প্রকৃত দেশদ্রোহী কে? বিদেশি শক্তির সাথে কার আাঁতাত রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের ধরনটাই বা ঠিক কী?”
বিতর্কের একটি স্পষ্ট রূপরেখা এঁকে রাহুল বলেন, “সামনে সংবাদমাধ্যম থাকবে, দেশের যুবসমাজ উপস্থিত থাকবে। এক টেবিলে একদিকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বসবেন, অন্যপাশে আমি থাকব। আপনি যাঁকে ইচ্ছা বিচারক করুন—এমনকি মোহন ভাগবতজিকে বসালেও আমার কোনো আপত্তি নেই।”
কংগ্রেস নেতার দাবি, এই বিতর্কে একাধিক বিতর্কিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি কীভাবে এবং কার স্বার্থে হলো, কেন এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং কেন ক্যাবিনেটকে অন্ধকারে রাখা হলো। পাশাপাশি আদানি সংক্রান্ত মামলা বন্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন ফেলা ‘এপস্টিন’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাহুল বলেন, এই বিতর্কের পর সব বিষয় “দুধ কা দুধ, পানি কা পানি” হয়ে যাবে।
মানহানির মামলা প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৫টি মানহানির মামলা করা রয়েছে, তবে এই বিদেশি যোগাযোগের বিষয়ে এখনও কোনো মামলা দেননি কেন? দিন না, সেখানেও প্রকাশ্য আলোচনা হবে।” সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রীকে শুভ দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের পোস্টটি শেষ করেন রাহুল।
কিরেন রিজিজুর পাল্টা আক্রমণ: রাহুল গান্ধীর এই পোস্টের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কঠোর ভাষায় আক্রমণ শানান। এক্স হ্যান্ডলে রিজিজু লেখেন, “ইসলামি মৌলবাদীদের মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা আর নৈরাজ্যবাদীদের সংবিধান প্রদর্শনের মতো রাহুল গান্ধীর এই বয়ানও সমানভাবে হাস্যকর।”
রিজিজুর অভিযোগ, ভারতের শত্রুপক্ষের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্যদের দিকে আঙুল তোলা কংগ্রেসের পুরোনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। উচ্চস্তরের এবং অর্থপূর্ণ বিতর্ক একমাত্র পরিণত ব্যক্তিদের মধ্যেই সম্ভব বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
বিতর্কের মূল কারণ: উল্লেখ্য, এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল গুজরাটের স্ট্যাচু অফ ইউনিটিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী (রাষ্ট্রীয় একতা দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভাষণকে কেন্দ্র করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, কিছু বিরোধী শক্তি দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং তারা দেশের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সেই সাথে বিদেশের মাটিতে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ এবং বিদেশি সহায়তার বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকেই মোদী-রাহুল বাগযুদ্ধ চরম রূপ ধারণ করেছে।