‘এসআইআর মানে অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও!’ কলকাতা থেকে বিস্ফোরক হুংকার শুভেন্দু অধিকারীর

দেশজুড়ে এসআইআর (SIR) ইস্যু ঘিরে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়েছে, ঠিক তখনই এর বিরুদ্ধে আসরে নেমে রাজ্যজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রার সূচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। সোমবার কলকাতার বুকে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে গেরুয়া শিবির। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে তাঁর দুই পাশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মিছিল শেষে ধর্মতলার জনসভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একহাত নেন শুভেন্দু অধিকারী।
কেন একজোট হয়েছে বিরোধীরা? তোপ শুভেন্দুর
দিল্লিতে বিরোধীদের সাম্প্রতিক ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দেশ বা জনকল্যাণের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই জোট তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য, জেলযাত্রা এড়াতে, পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে এবং তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতেই আজ বিরোধীরা এক হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুর চড়িয়ে বলেন, সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেদ করে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়ে বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন।
এসআইআর (SIR)-এর আসল অর্থ কী?
বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘এসআইআর’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এসআইআর মানে হলো—অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও।” তাঁর অভিযোগ, এই ন্যায়ের কাজকে বাধা দিতেই একটি মহল রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দেশ ও রাজ্যকে রক্ষা করতে ‘দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী ও ভ্রষ্টাচারী’ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে ‘আরশোলা, ছারপোকা ও টুকরে টুকরে গ্যাং’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী
রাজ্যের আগামী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। অতীতে ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে বিরোধী শিবিরকে সম্পূর্ণ সাফ করে দিয়ে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।