বিধানসভা ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘বিগ চমক’! বরাদ্দ বাড়ছে দ্বিগুণ? জল্পনায় নতুন মোড়

বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, ভোটের বৈতরণী পার করতে এবারেও মমতা সরকারের সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’ হতে পারে এই জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পটি। মনে করা হচ্ছে, বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় অনুদান বাড়ানো হতে পারে।

একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল সরকার অস্বস্তিতে থাকলেও, বিরোধীরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে। বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই রাজ্যে ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পের অনুদান দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোট নিশ্চিত করার জন্য মমতা সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ নিয়ে নতুন কোনো চমকপ্রদ ঘোষণা করতে পারে। অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশের মত, ভোটের আগে যদি এই প্রকল্পের বরাদ্দ দ্বিগুণও হয়, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা শোনা যাচ্ছে—লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করা হতে পারে। তবে শোনা যাচ্ছে, এই বর্ধিত ভাতা শুধুমাত্র সেই সমস্ত মহিলাদের জন্য উপলব্ধ হতে পারে, যাঁদের বার্ষিক আয় ২.১ লক্ষ টাকার কম। এই সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate) জমা দিতে হতে পারে বলেও খবর। যদিও, এই নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। মে মাসে উত্তরবঙ্গের এক প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারা ভারতে নয়, সারা পৃথিবীতে আমরা চালু করেছিলাম। সারাজীবন চলবে। মেয়েদের সম্মান, মা-বোনদের সম্মান।” সম্প্রতিও এক জনসভা থেকে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পটি চালু হয়েছিল।

রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান।

তপশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের মহিলারা বর্তমানে মাসে ১২০০ টাকা এবং সাধারণ সম্প্রদায়ের মহিলারা ১০০০ টাকা করে পান।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হয়তো চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের একদম শুরুতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে সুখবর আসতে চলেছে, যেখানে ভাতা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তা দ্রুত জানানো হবে।