বিজেপির সঙ্গে কার ‘সেটিং’? পুরভোটের মুখে তুঙ্গে তৃণমূলের অন্দরের মহা-সংঘাত!

আসন্ন পুরভোটের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধী দলগুলির আক্রমণ ছাপিয়ে বর্তমানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দুই হেভিওয়েট ও পক্ষের বাদানুবাদে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মূলত ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে গোপন আঁতাত বা ‘সেটিং’ তত্ত্বকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দলের একাংশ, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। তিনি দাবি করেন যে, কালীঘাট বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে গোপন বোঝাপড়া বা সেটিং হয়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল পড়ে যায়। তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি সত্যিই এমন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা সেটিং হয়ে যায়, তবে তা দলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক প্রমাণিত হবে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নেয়নি দলের অন্য অংশ। কুণাল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে ঋতব্রত শিবিরকে সরাসরি ‘বিজেপির দালাল’ ও ‘বিজেপির হাতের পুতুল’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। কুণালের অভিযোগ, এই অংশটি নিজেদের স্বার্থে দলের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং বিজেপির প্রকৃত সমালোচনার পরিবর্তে সারাক্ষণ তৃণমূলকেই নিশানা করছে। অথচ এই দলীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই তারা অতীতে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। কুণালের এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই বিতর্কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নতুন করে বোমা ফাটিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মদন মিত্র সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, রাজ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির পরেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন যে, এই সমস্ত দুর্নীতির পরেও কোনো বড় পরিণতি না হওয়ার একমাত্র কারণ হলো দলের একটি বিশেষ অংশের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এই দুই শিবিরের পারস্পরিক এই তরজা এখন চরমে পৌঁছেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরভোটের আগে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাশাপাশি ‘সেটিং’ তত্ত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা শাসকদলের নির্বাচনী রণকৌশলকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধীরা যখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে, তখন খোদ দলের অন্দরের নেতারা একে অপরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। কে ঠিক আর কার বক্তব্যে কতটা সত্যতা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।