ভাগ্নের বিয়েতে এসে ঝরল রক্ত! শুধু পার্কিং বিবাদে এনআরআই পরমজিতের শরীরে ৯টি গুলি, শিহরিত ফরিদাবাদ

জাতীয় রাজধানী দিল্লির সংলগ্ন হরিয়ানার ফরিদাবাদে অনাবাসী ভারতীয় (NRI) পরমজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। লখনউয়ের ত্রিপল মার্ডারের স্মৃতি উসকে সামান্য পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এলোপাথাড়ি ১৪ রাউন্ড গুলি চালায় আততায়ী। যার মধ্যে ৯টি গুলি বিদ্ধ হয় এনআরআই পরমজিতের শরীরে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মনু শর্মা ওরফে মোহনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভাগ্নের বিয়েতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরমজিৎ সিং দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করতেন। সম্প্রতি ফরিদাবাদের সেক্টর ২১সি-র ৬৪১ নম্বর বাড়িতে থাকা পরিবারের এক ভাগ্নের বিয়েতে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন তিনি। ওই আবাসনের দোতলায় পরমজিতের ফ্ল্যাট, আর ঠিক তার ওপরের অর্থাৎ তিনতলার ফ্ল্যাটে থাকত অভিযুক্ত মনু শর্মা ওরফে মোহন।
দীর্ঘদিন ধরেই ওই বহুতলে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে পরমজিৎ ও মনুর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। শুক্রবার রাতে সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রাগ সামলাতে না পেরে নিজের লাইসেন্সযুক্ত পিস্তল বের করে পরমজিৎকে লক্ষ্য করে দেদার গুলি চালাতে শুরু করে মনু।
১৪ রাউন্ড গুলি, ৯টি বিদ্ধ হয় পরমজিতের শরীরে
সুরজকুন্ড থানার এসএইচও (SHO) প্রহ্লাদ কুমার জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত অত্যন্ত নৃশংসভাবে পরমজিতের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে মোট ১৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যার মধ্যে অন্তত নয়টি গুলি সরাসরি পরমজিতের গায়ে লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।”
খবর পেয়েই সুরজকুন্ড থানা পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ দল তদন্তে নামে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্ত মনু শর্মাকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয়েছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিও।
আনন্দ ও উদযাপনের পরিবেশে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চরম শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে পরমজিতের পরিবারে। কীভাবে এক সামান্য গাড়ি রাখার বিবাদ এমন নির্মম রূপ নিতে পারে, তা ভেবে শিহরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।