‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে মাস্টারস্ট্রোক নির্মলার! সরকারি ব্যাঙ্কে বড় বদল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিরাট স্বস্তির ঘোষণা

২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক রূপরেখা পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ব্যাঙ্কিং সেক্টর এখন আর শুধু ‘ব্যালেন্স শিট’ সংশোধনের স্তরে আটকে নেই; বরং শক্তিশালী পরিকাঠামো ও নগণ্য নন-পার্ফর্মিং অ্যাসেটকে (NPA) পাথেয় করে দেশ এখন ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে পা বাড়িয়েছে।

এবারের বাজেটে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে না হেঁটে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধি ও গ্রাহক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একটি হাই-লেভেল কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সরকারি নন-ব্যাঙ্কিং ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনগুলির (NBFC) খোলনলচে বদলে ফেলতে পাওয়ার ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ও রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন কর্পোরেশনের পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সবথেকে বড় চমক হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) সীমা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৯ শতাংশ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যাঙ্কের ওপর ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব বা মালিকানা সরকারের হাতেই থাকবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) জন্য এই বাজেটে একগুচ্ছ স্বস্তির খবর রয়েছে। কর্পোরেট বন্ডের উন্নতিতে আনা হচ্ছে বন্ড ইনডেক্স ডেরিভেটিভ। এছাড়া অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা মূলধনী ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে। শেয়ার বাজারে প্রাথমিক ওঠানামা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই সংস্কারগুলো দেশের ঋণদান ক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অনুঘটকের কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।