বালিশের হলুদ ছোপ আর দুর্গন্ধ কাটাতে জাদুকরী ট্রিক! দামি ওয়াশিং মেশিন ছাড়াই ঘরেই করুন পারফেক্ট ‘বালিশ স্পা’

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে বিছানার চাদর বা কোলবালিশের কভার কাচা হলেও, আসল বালিশটা কিন্তু মাসের পর মাস ময়লা জমতে জমতে একাকার হয়ে যায়। অথচ আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে মাথার ঘাম, খুশকি ও তেল জমে বালিশ হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আঁতুড়ঘর। তবে বালিশ কাচার আগে এর কেয়ার লেবেল দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ পলিয়েস্টার বা পালকের বালিশ জলে ধোয়া গেলেও, মেমরি ফোমের বালিশ জলে ভেজানো একদমই উচিত নয়। ফোমের বালিশে দাগ পড়লে ভিজে কাপড় দিয়ে হালকা করে মুছে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
বাড়িতে বালিশ ধোয়ার জন্য কোনো দামি উপকরণের প্রয়োজন নেই। একটা বড় বালতি বা গামলা নিয়ে কড়া ডিটারজেন্ট পাউডারের বদলে সবসময় মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। এতে বালিশের ভেতরে সাদা দাগ জমা হওয়ার ভয় থাকে না। কভার খোলার পর বালিশের গায়ে থাকা হলদেটে ঘাম বা তেলের দাগগুলোতে কয়েক ফোঁটা লিকুইড সাবান লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষে নিন। এবার বালতিতে হালকা গরম জল নিয়ে তাতে এক বা দুই ছিপি লিকুইড ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নিন। খুব বেশি সাবান দিলে পরে ফেনা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে যায়।
হালকা গরম সাবান জলে বালিশটাকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিন যাতে প্রতিটি কোণায় জল পৌঁছায়। এরপর চারপাশ থেকে হালকা করে চেপে চেপে দিন যাতে জমে থাকা ধুলোময়লা বেরিয়ে আসে। জেদি দাগ ও গন্ধ দূর করতে বালিশটাকে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য গামলার জলেই ভিজতে দিন। ভেজানো হয়ে গেলে নোংরা জল ফেলে দিয়ে পরিষ্কার জলে বালিশটাকে বারবার ধুতে থাকুন। যতক্ষণ না ফেনা পুরোপুরি বের হচ্ছে ততক্ষণ হালকা হাতে চাপ দিতে থাকুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভেজা কাপড় নিংড়ানোর মতো করে বালিশ কখনও মোচড়াবেন না। এতে ভেতরের ফাইবার নষ্ট হয়ে বালিশ এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। এর বদলে বাথরুমের পরিষ্কার মেঝেতে বালিশটা সমতলভাবে রেখে হাতের তালু দিয়ে চেপে চেপে জল বের করে দিন। এরপর একটা শুকনো তোয়ালের ওপর ভেজা বালিশটা রেখে রুটির রোলের মতো বেশ শক্ত করে মুড়িয়ে ফেলুন। রোলের ওপর এক মিনিট মতো চাপ দিয়ে রাখুন যাতে তোয়ালেটা বাড়তি জলটুকু পুরোপুরি শুষে নিতে পারে। সবশেষে কড়া রোদে সমতল জায়গায় বালিশটি শুকাতে দিন। প্রতি দু-তিন ঘণ্টা অন্তর বালিশটা উল্টে দিন এবং ব্যবহারের আগে বালিশের মাঝখানটা পুরোপুরি শুকিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এই সহজ পদ্ধতি আপনাকে এনে দেবে দারুণ শান্তির ঘুম।