বামেদের হাত ছাড়ল কংগ্রেস! ‘একলা চলো’র পথে হাত শিবির, চন্দননগরে দাঁড়িয়ে কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত জানালেন গুলাম আহমেদ মীর?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে বড়সড় বদল আনল কংগ্রেস। বামেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট-সমীকরণে ইতি টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনেই ‘একলা চলো’র সিদ্ধান্ত নিয়েছে এআইসিসি (AICC)। শুক্রবার হুগলির চন্দননগরে এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট করলেন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা তথা এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক গুলাম আহমেদ মীর।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? গুলাম আহমেদ মীর জানান, দিল্লির হাইকম্যান্ড পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান কারণগুলি হলো:
সংগঠন পুনর্গঠন: জোটের ওপর নির্ভর না করে দলের নিজস্ব সংগঠনকে বুথ স্তর থেকে শক্তিশালী করা।
কর্মীদের মনোবল বাড়ানো: একা লড়ার ঘোষণা করলে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ এবং জেদ বাড়বে বলে মনে করছে নেতৃত্ব।
নতুন মুখ: ২৯৪টি আসনেই নতুন এবং তরুণ মুখদের সামনে এনে কংগ্রেসকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরা।
বামেদের সঙ্গে দূরত্ব? যদিও সরাসরি বামেদের সমালোচনা না করলেও, মীরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে জোটের রাজনীতিতে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক এবং পরিচিতি বারবার ধাক্কা খেয়েছে। তাই এবার নিজেদের জমি ফিরে পেতে একাই লড়াইয়ের ময়দানে নামতে চায় তারা।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিরোধী জোটে বড়সড় ফাটল দেখা দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে তৃণমূল যেমন আগেই একা লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের এই ‘একলা চলো’ নীতি ২০২৬-এর লড়াইকে কার্যত চতুর্মুখী (তৃণমূল, বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস) রূপ দিতে চলেছে।
এডিটরের নোট: কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত কি রাজ্যে বিজেপি বা তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা দেবে, নাকি ‘হাত’ শিবির হারানো জমি ফিরে পাবে? মুর্শিদাবাদ বা মালদার মতো জেলাগুলোতে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।