‘না চিঠি, না অনুমতি, এ কেমন ধরনা?’ রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভ নিয়ে তোপ দেগে বিস্ফোরক প্রশ্ন সুধাংশু ত্রিবেদীর!

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত হওয়া এক ধরনা কর্মসূচি ও প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি বা পূর্বঘোষিত চিঠি দেওয়া হয়নি বলে তীব্র আপত্তি তুলেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ সাংসদ ও জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। প্রতিবাদী কর্মসূচির আইনি বৈধতা ও নিয়মভঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বকে একহাত নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “না চিঠি দেওয়া হয়েছে, না কোনো রকম অনুমতি চাওয়া হয়েছে—তাহলে এটা কেমন ধরনা?” তাঁর দাবি, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিবাদের অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে সেই প্রতিবাদ প্রদর্শন বা আন্দোলন পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নিয়ম, আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক প্রোটোকল থাকে। সেই সমস্ত নিয়মনীতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং কোনো রকম পূর্বানুমতি ছাড়াই ইচ্ছামতো রাস্তা আটকে বা চত্বরে বসে কর্মসূচি পালন করাকে তিনি অগণতান্ত্রিক এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যা দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে নির্ধারিত মিছিলের অনুমতি না মেলায় আকাশবাণী ভবন চত্বরে কংগ্রেস নেতাদের একটানা দীর্ঘ আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অবস্থান-বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে রাহুল গান্ধী সহ শীর্ষ নেতাদের সাময়িক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এমনিতেই চড়ে রয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী শিবির এই পুলিশি পদক্ষেপকে সরাসরি ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ ও একনায়কতন্ত্রের তকমা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাচ্ছে, ঠিক তখনই শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে সুধাংশু ত্রিবেদী এই কড়া মন্তব্য করে পুরো পরিস্থিতিকে আরও একপ্রস্থ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। বিজেপির স্পষ্ট বার্তা, নিয়মের ঊর্ধ্বে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, রাহুল গান্ধীর এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী পক্ষের কথার লড়াই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।