বাড়িতে ক’টা রান্নার গ্যাস রাখা যায়? অতিরিক্ত সিলিন্ডার রাখলেই জেল-জরিমানা, জেনে নিন কড়া নিয়ম!

রান্না করতে করতে হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ঝামেলার ভয়ে অনেকেই বাড়িতে অতিরিক্ত এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার মজুত রাখেন। একটি শেষ হলেই যাতে অন্যটি দিয়ে রান্না চালিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই মূলত এই ব্যবস্থা। তবে আপনি কি জানেন, বাড়িতে চাইলেই ইচ্ছেমতো সিলিন্ডার জমিয়ে রাখা যায় না? সরকারি নিয়ম না মেনে বেশি সিলিন্ডার রাখলে পড়তে পারেন কড়া আইনি জটিলতায়।

বাড়িতে ক’টি সিলিন্ডার রাখা বৈধ?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি ডোমেস্টিক কানেকশনে আপনি বাড়িতে সর্বোচ্চ দু’টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে পারবেন। প্রতিদিনের রান্নার ব্যবহারের জন্য একটি এবং জরুরি পরিস্থিতির সামাল দিতে বা ইমার্জেন্সির জন্য আরেকটি—এই দু’টি সিলিন্ডার রাখাই আইনসম্মত। এর বেশি ভর্তি সিলিন্ডার বাড়িতে মজুত রাখা আইনত অপরাধ এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বেশি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হলে করণীয়

পরিবারের প্রয়োজনে যদি সত্যিই অতিরিক্ত সিলিন্ডারের দরকার হয়, তবে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এলপিজি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অত্যন্ত কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য, সাধারণ বাড়ির এই নিয়ম কিন্তু হোটেল, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ব্যবসার কাজে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি সিলিন্ডার রাখতে হলে স্থানীয় প্রশাসন এবং দমকল বাহিনীর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।

বিপদের ঝুঁকি ও বিমার জটিলতা

এক জায়গায় অনেকগুলো ভর্তি সিলিন্ডার জমিয়ে রাখলে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। সামান্য গ্যাস লিক করে ইলেকট্রিক সুইচ বা কোনো ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকেও মারাত্মক আগুন ধরে যেতে পারে। বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত রাখলে প্রশাসন যেমন কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তেমনই কোনো অঘটন ঘটলে বিমার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হবে বড় ধরনের আইনি জটিলতা।

এলপিজি সিলিন্ডার নিরাপদে ব্যবহারের উপায়

  • সঠিক পজিশন: সিলিন্ডার সবসময় সোজা (ভার্টিক্যালি) করে রাখুন, কখনও শুইয়ে রাখবেন না।

  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: সরাসরি রোদ আসে বা মাত্রাতিরিক্ত গরম এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখা উচিত নয়।

  • নিরাপদ দূরত্ব: উনুন, হিটার বা যেকোনো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির খুব কাছাকাছি সিলিন্ডার রাখবেন না।

  • বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা: যে ঘরে সিলিন্ডার রাখবেন, সেখানে যেন পর্যাপ্ত হাওয়া-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে।

  • নিয়মিত চেকিং: রেগুলেটর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পাইপে কোনো ফাটল আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। গ্যাস লিকের সন্দেহ হলেই বিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে সিলিন্ডার বন্ধ করে ডিস্ট্রিবিউটর বা জরুরি নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করুন।