বাজারে গিয়ে মাছে বিষ খাচ্ছেন না তো? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজাল ও প্রতারণা নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী!

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে লাগামছাড়া প্রতারণা ও ভেজালের বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। মঙ্গলবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেট চত্বরে রাজ্যব্যাপী ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বাজারে মাছ ও সবজি তাজা দেখাতে বিষাক্ত রাসায়নিক বা ক্ষতিকারক রং মেশানোর মতো জঘন্য অপরাধ আর বরদাস্ত করা হবে না। একইসঙ্গে বিগত দিনের সরকারগুলির তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রেতা সুরক্ষা দফতরকে এতদিন সম্পূর্ণ অবহেলা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বাজারদরের চরম ঊর্ধ্বগতি এবং খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জন্য চালের দাম অস্বাভাবিক বেশি থাকবে কেন, তা বোধগম্য নয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিষিদ্ধ রং ও বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে শাকসবজি, মাছ এবং মিষ্টির মান নষ্ট করছে, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে মারাত্মক खिलवाड़। শুধু তাই নয়, ওজনে ঠকানো, আবাসন শিল্পে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অনলাইন ফুড ডেলিভারির নামে চলা ভয়াবহ জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করেছেন তিনি। সম্প্রতি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অভিযানে ভুক্তভোগীদের প্রতারিত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এই সমস্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শক্তহাতে দমনের জন্য প্রশাসন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে মাঠে নামছে। আগামী ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরো এক সপ্তাহজুড়ে রাজ্যজুড়ে ক্রেতাদের অধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ প্রচার চালানো হবে। বাউল গান, লিফলেট বিলি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই সুরক্ষা দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।