ডিসেম্বরেই সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন মিমি চক্রবর্তী? পাত্র কে? টলিপাড়ায় চরম গুঞ্জন!

টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিনোদন জগতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। টলিপাড়ার অন্দরের গুঞ্জন সত্যি হলে, খুব শীঘ্রই ছাঁদনতলায় বসতে চলেছেন এই তারকা। সব কিছু ঠিকঠাক চললে চলতি বছরের আগামী ডিসেম্বর মাসেই বিয়ের সানাই বাজতে চলেছে তাঁর। বিশেষ এই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য নাকি জাঁকজমকপূর্ণ কোনো সমুদ্র সৈকত নয়, বরং পাহাড়ের রানী উত্তরবঙ্গের কালিম্পংকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতির কোলে এক রাজকীয় ও অন্তরঙ্গ বিয়ের আসর বসতে চলেছে বলে খবর।

মিমির মনের মানুষ বা হবু স্বামী কে, তা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাত্র গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। তিনি পেশায় একজন নৌসেনা কর্মকর্তা এবং তাঁর নাম সিদ্ধার্থ। যদিও বিয়ের কার্ড বা নিমন্ত্রণপত্র বিলি শুরু হয়ে গেছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তবুও মিমি কিংবা তাঁর হবু বর—কেউই এখনও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। এমনকি অভিনেত্রীর আপ্তসহায়কও আপাতত এই বিয়ের খবরের সত্যতা সরাসরি স্বীকার করতে চাননি। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মিমির দেওয়া কিছু রহস্যময় উত্তর এই বিয়ের জল্পনাকে আরও বহুগুণ উস্কে দিয়েছে।

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি তাঁর কুণ্ঠাহীন কেরিয়ারের শুরু করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। তবে ২০১০ সালে জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘গানের ওপারে’-তে ‘পুঁপে’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে তিনি প্রতিটি বাঙালি ঘরের ড্রয়িংরুমে নিজের জায়গা করে নেন। এরপর ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার হাত ধরে শুরু হয় তাঁর বর্ণময় রূপোলি পর্দার যাত্রা। বিশেষ করে ‘বোঝে না সে বোঝে না’-র মতো সুপারহিট বাণিজ্যিক ছবিতে প্রথাগত ছকের বাইরে বেরিয়ে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা পাকা করে নেন। এরপর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিজের সাফল্যের ছাপ রেখেছিলেন মিমি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি সাংসদ হিসেবেও সফল দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি তাঁর পেশাদার অভিনয় জীবন নিয়ে দারুণ ব্যস্ত। আসন্ন দুর্গাপূজোয় মুক্তি পেতে চলেছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তাঁর অত্যন্ত চর্চিত ছবি ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। পাশাপাশি নতুন আরও একটি প্রজেক্টের কাজও পুরোদমে শুরু করে দিয়েছেন। পেশাগত জীবনের এই আকাশছোঁয়া সফলতার মাঝেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই গোপন বিয়ের খবর টলিপাড়ার বাতাসে এখন উষ্ণতা ছড়াচ্ছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে তাঁদের প্রিয় তারকা নিজের মুখে এই শুভসংবাদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন।