‘বাংলাদেশের মতো ক্ষমতা দখলের ছক!’ পদত্যাগ করে প্রথমবার মুখ খুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, নিশানায় সিজেপি ও রাহুল

NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র লাগাতার আন্দোলনের মুখে পড়ে একসময়ে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার সেই আন্দোলন এবং সিজেপি-র ভূমিকা নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক জোরালো পোস্টে এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, “জাতীয় স্বার্থ, সিস্টেম বদলের দাবি এবং ছাত্রকল্যাণের আড়ালে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের আসল রূপ আজ সকলের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যেভাবে প্রকাশ্যে শাসন পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, তাতে স্পষ্ট যে সাধারণ ছাত্রদের সামনে রেখে দেশে নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করার এটি একটি গভীর ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
বিদেশি শক্তির ইশারা বা প্রভাবে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখাদের তীব্র ভাষায় সতর্ক করে তিনি বলেন, “যাঁরা বিদেশি শক্তির প্রভাবে ক্ষমতা দখলের দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের এটা পরিষ্কার বুঝে রাখা উচিত যে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নয়, শুধুমাত্র দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। দেশের দেশপ্রেমিক নাগরিকরা এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও ক্ষতিকর চিন্তাভাবনা কখনো বরদাস্ত করবে না।”
রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ: নিজের ওই পোস্টে সরাসরি কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও একহাত নিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। রাহুলকে নিশানা করে তিনি লেখেন, “উনি বারবার দেশের জনগণের রায়কে অপমান করছেন। যখনই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কংগ্রেস কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ব্যর্থ হয়, তখনই তারা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর জনগণের অনাস্থা তৈরি করার নোংরা খেলায় নামে।”
রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কংগ্রেস দল রোজ সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রান করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের সংযোজন, “যিনি সবসময় পকেটে বা হাতে সংবিধান নিয়ে ঘুরে বেড়ান, সেই রাহুল গান্ধীকে দেশের জনগণ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তা সত্ত্বেও অন্ধ ক্ষমতার লালসায় তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ইচ্ছেমতো প্রশ্নবিদ্ধ করে জনরায়কে অবজ্ঞা করছেন এবং ভারতের মহান গণতন্ত্রের মর্যাদাকে ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছেন। গণতন্ত্রের প্রতি রাহুল গান্ধীজির এই ঘৃণ্য ও সংকীর্ণ মনোভাব অত্যন্ত লজ্জাজনক।”