বস্তাবন্দি খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হতেই বড় পদক্ষেপ! সামশেরগঞ্জের আইসি সাসপেন্ড, পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা!

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি সমর্থক সুজিত মণ্ডলকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। পশুর কাটার অস্ত্র দিয়ে শরীর খণ্ডবিখণ্ড করে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়ার এই পৈশাচিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একগুচ্ছ কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ২৮ অগাস্ট মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ কোনও তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। অবশেষে টানা সাত দিন পর ফরাক্কার গোঁসাইপুর থেকে তাঁর বস্তাবন্দি ও খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্তে নেমে সামিউল শেখ, তাজকীরা বিবি এবং জনি শেখ নামে তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এদিনের ঘটনায় স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী থানায় সাহায্য চাইতে গেলেও পুলিশ কোনো সাহায্য করেনি। এটি অত্যন্ত বড় গাফিলতি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সামশেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষ, এএসআই সুমন্ত কুমার দাস এবং এসআই সাইফুল আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিংকেও সতর্ক করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা ধুলিয়ানের এই নৃশংসতার সঙ্গে মুর্শিদাবাদেরই জাফরাবাদে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তুলনা টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ক্ষতিপূরণ বাবদ সুজিত মণ্ডলের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি, মৃতের স্ত্রী যদি চান তবে তাঁকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের হোমগার্ডের চাকরিও দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।