বঙ্গোপসাগরে ড্রাগন-পাক আঁতাত, ভারতকে চাপে ফেলতে নতুন সাবমেরিন নামাচ্ছে পাকিস্তান!

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য ফের একবার পরিবর্তনের মুখে। সম্প্রতি চীনের তৈরি ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সাবমেরিনটি নিয়ে আসার সময় পাকিস্তানের নৌবাহিনীর প্রতিনিধি দল শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে যাত্রাবিরতি করে। সেখানে কমোডর ওমর ফারুক শ্রীলঙ্কার দৈনিক ‘দ্য মর্নিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন দিল্লির নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
কমোডর ফারুকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান কেবল একটি নয়, এমন আরও সাতটি ‘হ্যাঙ্গর-শ্রেণির’ সাবমেরিন খুব দ্রুত নিজেদের নৌবাহিনীতে যুক্ত করতে চলেছে। তাঁর ভাষায়, এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর অবস্থান ও আধিপত্য নিশ্চিত করবে। এই মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৯৭১ সালের পর থেকে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মূল কার্যক্ষেত্র মূলত উত্তর আরব সাগর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন পাকিস্তান সরাসরি ভারতের কৌশলগত এলাকার অংশ বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামধারী পাকিস্তানের একটি সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ছিল এবং সেটিই ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের পর পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর থেকে বিদায় নিলেও, প্রায় পাঁচ দশক পর তারা নতুন করে এখানে ফেরার পরিকল্পনা করছে। ভারত ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতকে এই অঞ্চলে একচ্ছত্র সুবিধা দেয়। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা এই বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভরশীল।
এমন এক সময়ে পাকিস্তানের এই ‘গেম চেঞ্জার’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা সামনে এল, যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য শক্তির প্রভাব বিস্তারের লড়াই চলছে। কমোডর ফারুকের এই বক্তব্যের পর প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান মূলত চীনের সহায়তায় বঙ্গোপসাগরে ভারতের নজরদারি ও কৌশলগত সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করছে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রসীমায় সামরিক যানের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে, তবুও বঙ্গোপসাগরের শান্ত পরিবেশে পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। ভারত সরকার এবং নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি এখন পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান নৌ-সক্ষমতার দিকে কড়া নজর রাখছে।