বকেয়া ডিএ মেটানোর ডেডলাইন ঘোষণা! ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পকেটে ঢুকছে বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা!

রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে এক বছরের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ঠিক এক লক্ষ কর্মপ্রার্থীকে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার ঐতিহাসিক রূপরেখা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন সভাঘরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মাধ্যমে সদ্য নির্বাচিত সমবায় পরিদর্শকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় এই বড় ঘোষণা করেন তিনি। স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত সরকারের জমানার কোনো ভুল ত্রুটি এই সরকারের আমলে বরদাস্ত করা হবে না।

১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে স্বচ্ছ নিয়োগের বার্তা

এদিন নবনিযুক্তদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সাংবিধানিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST), ওবিসি (OBC) এবং বিশেষ সক্ষম প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমস্ত সংরক্ষণ নীতি সুনিশ্চিত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রায় দু’বছরের বেশি অপেক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবারে যোগদান করছেন, তাঁদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। বিগত সরকার যা ভুল করেছে, এই সরকারের আমলে একবারও হবে না—এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে আপনাদের বলতে পারি।”

কতগুলি শূন্যপদে চলছে নিয়োগ প্রক্রিয়া?

রাজ্যের কর্মসংস্থানের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৩,৪৯৬টি শূন্যপদ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বা নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০,৮৩৫টিই স্থায়ী পদ, যার মধ্যে রয়েছে:

  • শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী: ৩৩,৪০৯ জন।

  • পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর: ১২,১৪৭ জন।

  • পঞ্চায়েত স্তর: ৭,১১৯ জন।

এছাড়াও ইতিমধ্যেই ১০,২৩৩ জন কনস্টেবল এবং সমবায় দপ্তরের ১৫২ জন আধিকারিকের হাতে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এমনকি আগামী শনিবারই লালবাজারে তিন শতাধিক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে চাকরির চিঠি তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ অনুসরণ করে কোনো আইনি জটিলতা না রেখে দ্রুত জব ফেয়ারের মাধ্যমেই চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

বকেয়া ডিএ মেটানোর চূড়ান্ত সময়সীমা ও সপ্তম পে কমিশন

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে এদিন অত্যন্ত বড় আপডেট দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, বকেয়া ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

পাশাপাশি, গত ১৫ অক্টোবর থেকে ২০ শতাংশ ডিএ-সহ বর্ধিত বেতন দেওয়ায় সর্বনিম্ন বেতনস্তর অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ চলতি অর্থবর্ষেই হাতে এলে তা দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জনগণের কাছে সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারাই এখন সরকারের আসল ‘মুখ’। নবান্নের এই মেগা ঘোষণা ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে কর্মপ্রার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের মহলে খুশির জোয়ার বইছে।