আগে ছিল মাফিয়াদের রাজত্ব, আজ ‘নো কার্ফু, নো রায়ট’! ভোটের মুখে সমাজবাদী পার্টিকে ধুয়ে দিলেন যোগী!

আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ চড়াতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ফের একবার সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) পূর্ববর্তী শাসনকালকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে দেড় হাজারেরও বেশি দাঙ্গা, লাগাতার কার্ফু এবং চরম অরাজকতা চলত। দুর্নীতি ও মাফিয়াদের কবলে জিম্মি হয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্য। অথচ সেই একই শক্তি আজ বর্তমান সরকারকে গণতন্ত্রের পাঠ দিচ্ছে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।
আগের অরাজকতা বনাম বর্তমানের শান্ত পরিবেশ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অতীতে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা শোচনীয় ছিল। তাঁর অভিযোগ:
দাঙ্গা ও কার্ফু সংস্কৃতি: সমাজবাদী পার্টির চারবারের শাসনকালে—বিশেষ করে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মুজফ্ফরনগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় সাম্প্রদায়িক হিংসা ঘটেছিল। উৎসবের সময় নিয়মিত কার্ফু জারি করা হতো, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ত।
মাফিয়া রাজ ও বিনিয়োগের অভাব: গুন্ডা ও মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের কারণে ভিনরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে আসতে ভয় পেতেন। যুবসমাজ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত এবং কৃষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।
“এখন রাজ্যে নো কার্ফু, নো রায়ট!”
বিজেপি সরকারের আমলের আমূল পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে মাফিয়া শাসনের চিরতরে অবসান ঘটেছে। বুলডোজার অ্যাকশনের মাধ্যমে অপরাধীদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যে এখন ‘নো কারফিউ, নো রায়ট’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুর্গা পূজা, কাঁওয়ার যাত্রা থেকে শুরু করে সমস্ত ধর্মীয় উৎসব এখন যেকোনো বাধা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিতে ও ভক্তিমভরে পালিত হচ্ছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষই আজ সম্পূর্ণ নিরাপদ।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
যারা এককালে রাজ্যে নৈরাজ্য ও হিংসাকে মদত জুগিয়েছিল, আজ তারাই ভোটের মুখে গণতন্ত্রের কথা বলছে—এটিকে সর্বৈব স্ববিরোধিতা বলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যে আইনশৃঙ্খলা এবং নারীর নিরাপত্তাকেই তাদের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র করতে চাইছে, যোগীর এই বক্তব্য তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। যদিও যোগী সরকারের এই সমস্ত আক্রমণ ও দমনমূলক নীতির সমালোচনা করে আসছে সমাজবাদী পার্টি। তবে যোগীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে ফের একবার চরম শোরগোল ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।