ফল প্রকাশের দিনেই আইনি প্যাঁচ, অতিরিক্ত ১০ নম্বর বিতর্কে আটকে গেল স্কুল শিক্ষকের চাকরি!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। ফল প্রকাশের দিনেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে একটি মামলার কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত থেমে গেছে।
মামলার মূল কারণ: অতিরিক্ত নম্বর বিতর্ক
SSC নিয়োগ পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫ বছরের বেশি পড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের বক্তব্য, যাঁদের প্যানেল বাতিল হলো, তাঁরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কী করে অতিরিক্ত ১০ নম্বর পেতে পারেন? এক বছরের অভিজ্ঞতার জন্য ২ নম্বর করে, অর্থাৎ ৫ বছরের অভিজ্ঞতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ নম্বর বরাদ্দ করার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এই অতিরিক্ত নম্বর নিয়ে নতুন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং তাঁরাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ: ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ‘নো রিক্রুটমেন্ট’
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই মামলার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর। আগামী ১২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘোষণা: ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগের আশা
অন্যদিকে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ফল প্রকাশের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানান, “এসএসসি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ সংক্রান্ত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপদেশ ও অভিভাবকত্বে… স্বচ্ছতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষা আজ নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করল। এই ফল প্রকাশ… ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন নিয়োগের বাস্তবায়নের পথে এক অনন্য অগ্রযাত্রা।”
চাকরিহারাদের উদ্দেশ্যে বার্তা
শিক্ষামন্ত্রী চাকরিহারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দুশ্চিন্তা না করার বার্তা দিয়ে বলেছেন, রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপই স্বচ্ছতার সঙ্গে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একাদশ-দ্বাদশে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬০৬ জন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ৩৫টি বিষয়ের উপর পরীক্ষা হয়। নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ—এই দুই স্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদ ৩৫ হাজার ৭২৬টি, যার মধ্যে একাদশ ও দ্বাদশের শূন্যপদ ১২ হাজার ৫১৪টি। কিন্তু আদালতের নির্দেশে এখন সেই নিয়োগই অনিশ্চিত।