প্রেসক্রিপশন ছাড়াই মিলছে নেশার ওষুধ? ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা খুচরো বিক্রেতাদের!

অনলাইন ফার্মেসি বা ই-ফার্মেসির অনিয়ন্ত্রিত বাড়বাড়ন্ত এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলোর দেওয়া ‘কিলার’ ডিসকাউন্টের বিরুদ্ধে এবার বড়সড় আন্দোলনের পথে নামছে ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (AIOCD)। আগামী ২০ মে দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এই সংগঠন। ওইদিন মধ্যরাত থেকে পরবর্তী মধ্যরাত পর্যন্ত সারা দেশের পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।
AIOCD-এর অভিযোগ, বড় বড় কর্পোরেট হাউসগুলো ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত বিপুল ছাড় দিচ্ছে, যা সাধারণ খুচরো বিক্রেতাদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) যেখানে খুচরো বিক্রিতে মাত্র ১৬% লাভের অনুমতি দেয়, সেখানে এই পরিমাণ ছাড় আসলে বাজার দখলের এক নোংরা কৌশল বা ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’। সংগঠনের দাবি, বিপুল পুঁজির জোরে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করতে চাইছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো, যার ফলে ধ্বংসের মুখে দেশের লক্ষ লক্ষ ছোট ও স্বাধীন ওষুধের দোকান।
আন্দোলনের রূপরেখা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে রাজ্য স্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। ১৫ মে থেকে সপ্তাহব্যাপী কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানাবেন দোকানদাররা। এরপর ২০ মে পালিত হবে পূর্ণদিবস বনধ। দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়েও সরব হয়েছে AIOCD। তাদের অভিযোগ, ই-ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট ও রোগীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাকে না। এর ফলে একই প্রেসক্রিপশন বারবার ব্যবহার করে নেশার ওষুধ বা ক্ষতিকারক ড্রাগ কেনার প্রবণতা বাড়ছে। সঠিক ‘কোল্ড চেইন’ বা শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই যেভাবে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া এবং বাজারে নকল ওষুধ ঢুকে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল এবং সভাপতি জে. এস. শিন্ডের মতে, জনস্বার্থ এবং নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টদের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকার অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ না নিলে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা বড়সড় সঙ্কটে পড়বে।