প্রতীক বদল হলেও স্বস্তি! কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে বাধা নেই, বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রতীক বদল হলেও স্বস্তি অব্যাহত! কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোনও বাধা নেই, নির্দেশ হাইকোর্টের
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলের প্রতীক ও নাম বদলালেও কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় স্বস্তির খবর শোনাল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রতীক পরিবর্তন হলেও আগের নির্দেশ অনুযায়ী কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোনও বাধা নেই। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিশনের নির্দেশিকায় যে প্রতীক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে তা মূলত আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য। ফলে এই মুহূর্তে সেটি সার্বিকভাবে কার্যকরী করা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে আদালত জানিয়েছে, কালীঘাট তৃণমূলের অনুমোদিত যে কোনো দু’জন ব্যক্তি তিনটি অ্যাকাউন্টের চেকে সই করতে পারবেন। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আদালত নিযুক্ত বিশেষ অফিসার সেই সমস্ত চেক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পর তবেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ছাড় করা হবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থাপনার নির্দেশ বহাল থাকবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্য কাহিনী: চলতি বছরের জুলাই মাসে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ওঠে। সেই সময় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল তিনিই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন। এবার সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদই বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরণের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। দল বর্তমানে বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। ২৮ বছরের পুরনো ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং নাম সাময়িকভাবে বদলালেও আদালতের এই নির্দেশে দলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তি মিলল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।