‘অভিভাবকহীন’ শহরে নোংরার পাহাড়! বেতন না পেয়ে জলপাইগুড়ি জুড়ে সাফাই কর্মীদের বিরাট বিক্ষোভ

জলপাইগুড়ি পুরসভার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার জেরে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আইনি জটিলতা ও বেতন বন্ধ থাকার অভিযোগে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে গিয়েছেন পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। এর ফলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই গোটা শহর ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গেছে। শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অলিগলি নোংরা ও দুর্গন্ধে ভরে ওঠায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকেই জলপাইগুড়ি পুরসভায় অস্থিরতার শুরু। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে পৌরসভার দৈনন্দিন কাজ প্রায় থমকে যায়। এরপর পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো হলেও, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন কাউন্সিলরদের একটি অংশ। আদালতের নির্দেশমতো নতুন করে বোর্ড গঠনের বৈঠক ডাকা হলেও কোরামের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। মাঝখান থেকে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই ও টানাপোড়েনের জেরে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক অস্থায়ী কর্মীরা। গত দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

সোমবার সকালে পুরসভার প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সাফাই কর্মীরা। গেটের বাইরেই জঞ্জাল ফেলে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন না তাঁদের বকেয়া পাওনা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। অন্যদিকে, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বললেও জঞ্জাল অপসারণ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান দিতে পারেননি। স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে শহরবাসী অবিলম্বে এই জটিলতা কাটিয়ে নিকাশি ও সাফাই ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি তুলেছেন।