পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, টিউমার ভেবে চিকিৎসক পেট কাটতেই বেরিয়ে এল একের পর এক ৪০টি আস্ত ছুরি! পঞ্জাবের এই ঘটনায় রক্ত হিম সবার

অসহ্য পেটের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন এক পুলিশকর্মী। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকদের ধারণা হয়েছিল, হয়তো পাকস্থলীতে বড় কোনো টিউমার বাসা বেঁধেছে। কিন্তু অস্ত্রোপচার করতেই রোগীর পেট থেকে যা বেরিয়ে এল, তা দেখে চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ! টিউমার তো দূরের কথা, ওই যুবকের পেট থেকে একে একে উদ্ধার হয়েছে গুনে গুনে প্রায় ৪০টি আস্ত ধারালো ছুরি। শিহরণ জাগানো এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের অমৃতসরে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সি ওই পুলিশকর্মী গত দু’মাস ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই কাণ্ডটি ঘটিয়ে আসছিলেন। টানা পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অত্যন্ত জটিল এক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পেট থেকে প্রায় ৭ ইঞ্চি লম্বা বেশ কয়েকটি ফোল্ডিং ছুরি বের করা হয়, যেগুলির মধ্যে অনেকগুলির হাতল ছিল কাঠ ও ধাতুর তৈরি। অস্ত্রোপচারকারী প্রধান শল্যচিকিৎসক রাজিন্দর রাজন জানিয়েছেন, পেটের ভেতরে বেশ কয়েকটি ছুরি খোলা অবস্থায় থাকায় রোগীর তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তি চিকিৎসকদের জানিয়েছেন যে হাসপাতালে আসার আগেই মলদ্বার দিয়ে আরও দু’টি ছুরি তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু এমন আত্মঘাতী ও বিপজ্জনক কাজ তিনি কেন করলেন? এই অদ্ভুত প্রশ্নের জবাবে দুই সন্তানের বাবা ওই পুলিশকর্মী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা শুনলে অবাক হবেন যে কেউ। সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানান, এক অজানা ‘অলৌকিক শক্তি’র প্রভাবে নাকি তিনি ছুরিগুলো গিলে ফেলতেন। গত জুন মাসে প্রথমবার কৌতূহলবশত একটি ছুরি গিলে ফেলার পর নাকি বিষয়টি তাঁর বেশ ভালো লেগে গিয়েছিল। এরপর থেকেই দিনে অন্তত একটি করে ছুরি গিলে খাওয়ার নেশায় পেয়ে বসে তাঁকে। তাঁর দাবি, এই অভ্যাস যে তাঁর প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরবর্তীতে যখন সারা পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়, তখন বাধ্য হয়ে তিনি হাসপাতালে ছোটেন।