পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল মধ্যবিত্তের! হু হু করে দাম বাড়তেই এ কী করল প্রশাসন?

পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে বাজার ও হিমঘরে অভিযান প্রশাসনের, চরম অস্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা
অস্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে শুরু করেছে। চিনির চড়া দামের পর এবার পেঁয়াজের ঝাঁজে রীতিমতো নাজেহাল মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। মালদার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সরাসরি ময়দানে নামল প্রশাসন। বুধবার মালদার চাঁচলে বাজার ও হিমঘরগুলিতে একযোগে অভিযান চালালেন মহকুমা শাসক হৃত্বিক হাজরা সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।
হিমঘরে মজুত অথচ বাজারে চড়া দাম?
প্রশাসনের নজরে এসেছে যে স্থানীয় হিমঘরগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তা সত্ত্বেও খুচরো বাজারে কেন এত চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়। এদিন চাঁচল দৈনিক বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকেরা। পেঁয়াজ কেনার রসিদ থেকে শুরু করে বিক্রির হিসাব—সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের বক্তব্য:
খুচরো ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই তাঁদের চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় সামান্য লাভ রেখে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পাইকারদের দাবি, রাজ্যে পেঁয়াজ চাষ না হওয়ায় ভিন রাজ্য অর্থাৎ মধ্যপ্রদেশ থেকেই বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে তাঁদের।
তবে প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কৃত্রিম উপায়ে দাম বৃদ্ধি বা কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন। লাগাতার এই নজরদারির ফলে অচিরেই পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি ফিরবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।