পুরুষদের একাধিপত্য শেষ! উত্তরপ্রদেশের এই নারীরা কম জমিতে চাষ করে ঘরে তুলছেন বাম্পার লাভ

কৃষিকাজ মানেই কঠোর পরিশ্রম আর পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য—এই ধারণা এখন অতীত। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার নারীরা কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদল করে চলেছেন। বিশেষ করে লাভজনক সবজি চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তারা আর্থিক স্বনির্ভরতার অনন্য নজির গড়ে তুলেছেন।

জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এখন নারীরা সবজি চাষ করে শুধু নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থাই শক্তিশালী করছেন না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখছেন। বর্ষার মরশুমে যখন গতানুগতিক ফসলের চাষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তখন সবজি চাষ হয়ে উঠেছে দারুণ এক বিকল্প। বর্তমানে লখিমপুর খেরির গ্রামীণ অঞ্চলে ‘কাটিলা পটল’ বা কাঁকরোল চাষ নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের মহিলারা এই বিশেষ সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

লখিমপুর খেরির রবীন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা পুনম এই সফল নারীদের মধ্যে অন্যতম। আড়াই একর জমিতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে কাটিলা পটল চাষ করছেন। এই কাজে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁকে সমানভাবে সাহায্য করেন। তাঁর উৎপাদিত পটল এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, বরং কানপুর এবং দিল্লির মতো দেশের বড় বড় শহরেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সবজির ভালো দাম পাওয়ায় চাষী মহিলারা অত্যন্ত খুশি। পুনমের কথায়, বাজারে বর্তমানে কাটিলা পটলের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে যদি এই দাম বজায় থাকে, তবে সবজি চাষ করে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি লাভ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সময়ে টাটকা শাকসবজির চাহিদা বাজারে সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। কাটিলা পটল বাজারে আসামাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। এই চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য কৃষকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে খুব দ্রুত ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারে তা বিক্রি করে চটজলদি হাতে নগদ টাকা আসে। লখিমপুর খেরির এই নারীদের সাফল্যের গল্প এখন আশেপাশের এলাকার অন্য মেয়েদেরও কৃষিকাজে এগিয়ে আসার জন্য প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে।